‘পেটে গজ রেখে সেলাই মার্ডারের চেয়েও ভয়াবহ’

  

পিএনএস ডেস্ক: আদালতে আত্মসমর্পণের পর চিকিৎসক পরিচয়দানকারীর আসল পরিচয় বের হয়ে আসলো। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্বীকার করেছেন তিনি রাজন দাস নন। তার নাম অর্জুন চক্রবর্তী। তার কোনো ডাক্তারি সনদ নেই। তিনি ভুয়া ডাক্তার।

এ সময় আদালত বলেন, পেট কেটে গজ ভেতরে রেখেই সেলাই করা তো মার্ডারের চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। সন্তান প্রসবের সময় করা অস্ত্রোপচারের সাড়ে তিনমাস পর পটুয়াখালীর প্রসূতি মা মাকসুদা বেগমের পেট থেকে গজ বের করার ঘটনায় ভুয়া চিকিৎসক অর্জুন চক্রবর্তী ওরফে রাজন দাসকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরে তার বিরুদ্ধে থাকা বাউফল থানার মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এরপর তাকে শাহবাগ থানায় পাঠানো হয়। আদালতে বিষয়টি শুনানি করার সময় দুপুরে এজলাসের পেছনের কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল অর্জুন চাক্রবর্তী। এসময় আদালত বলেন, রাজন দাসকে সামনে আসেন। তখন পেছন থেকে ডায়েসের কাছে গিয়ে দাড়াঁয় রাজন দাস নামধারী অর্জুন চক্রবর্তী। আদালত বলেন, তাকে তো (অ্যারেস্ট) গ্রেফতার করে আনার কথা ছিল। সেকি (অ্যারেস্টেট) গ্রেফতারকৃত। আমরা তাকে গ্রেফতার করার জন্য বলেছিলাম।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার আদালতকে বলেন, পুলিশের চেষ্টার পরেও তাকে গ্রেফতার করার জন্য খোঁজে পাওয়া যায়নি। তাই রাজন ওরফে অর্জুন পালকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন। তিনি চাঁদপুরের মতলব উপজেলাধীন তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার সেচ্ছায় তিনি আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।

এ সময় অর্জুনের পাশেই বসা তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন দাঁড়িয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে আদালত আইনজীবীকে থামিয়ে দেন। এবং রাজন দাসের কাছে জানতে চান আপনার নাম কী? জবাব তিনি বলেন, আমার নাম রাজন দাস না অর্জুন চক্রবর্তী। আপনি কি ডাক্তার। জাবাবে অর্জুন বলেন, না। আমি রাজনের নাম ব্যবহার করতাম। আপনি এসব কী করেছেন ? একজন নারীর পেট কেটে সেলাই করে দিলেই কি সব শেষ। পেট কেটে গজ ভেতরে রেখেই সিলাই করলেন। এটা তো মার্ডারের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা ?

এরপর ভুয়া চিকিৎসক অর্জুন চক্রবর্তী ওরফে রাজন দাসকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতে সোমবার মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সামসাদ।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামসুদ্দিন বাবুল। ভুল অস্ত্রোপাচারের শিকার মাকসুদা বেগমের পক্ষে শুনানি করেন ইমরান এ সিদ্দিক। আর ক্লিনিকের পরিচালক ও নার্সের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট তোফায়েল সিকদারের (মিশু সিকদার) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আইলাদ হোসেন। আর ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসের পক্ষে গোলাম নবী শুনানি করেন।

পরে ইমরান এ সিদ্দিক বলেন, ভুয়া চিকিৎসক, ক্লিনিকের মালিক, নার্স ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেয়ার পর আমরা ডেপুটি রেজিস্ট্রারের কক্ষে যাই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় বাউফল থানায় একটি মামলা আছে। যেহেতু এক অপরাধে দুই মামলা হয় না, তাই বিষয়টি কোর্টের নজরে আনি।

‘পরে কোর্ট রাজনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করতে নির্দেশ দেন। অপর তিনজনের বিষয়ে আদালত কিছু বলেননি। তবে ১৩ ডিসেম্বর এ বিষয়ে আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।’

আইনজীবী শামসুদ্দিন বাবুল বলেন, ‘কথিত রাজন দাসের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি মামলা আছে। তাকে ওই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে শাহবাগ থানায় পাঠিয়ে দিতে বলেছেন। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বাউফল থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’ আদালতে নিরাময় ক্লিনিকের মালিক, ভুয়া চিকিৎসকের সহকারী তোফায়েল সিকদার ওরফে মিশু সিকদারও উপস্থিত ছিলেন।

গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হল গজ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লা আদালতের নজরে আনার পর রুলসহ হাইকোর্ট আদেশ দেন।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech