ধর্ষণের পর রূপাকে আঘাত করা হয়েছিল - আইন-আদালত - Premier News Syndicate Limited (PNS)

ধর্ষণের পর রূপাকে আঘাত করা হয়েছিল

  

পিএনএস ডেস্ক : টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে ধর্ষণের পরে আঘাত করা হয়। আর আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

রূপার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সাইদুর রহমান আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন। তিনি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। দুপুর ১২টায় ২০ মিনিটব্যাপী সাক্ষ্য দেন সাইদুর। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন ও শামীম চৌধুরী তাঁকে ঘণ্টাব্যাপী জেরা করেন।

আদালতে আজ চিকিৎসক সাইদুর রহমান ছাড়াও রূপার ব্যাগ জব্দ করার সাক্ষী পুলিশ কনস্টেবল আবদুল হান্নান ও লাশের সুরতহাল করার সাক্ষী মধুপুরের জলছত্র এলাকার আবদুল মান্নান এবং শিশির মোহন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে এই মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। আগামীকাল বুধবার এই মামলার আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধকারী চার বিচারিক হাকিমের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহনশ্রমিকেরা ধর্ষণ করেন। পরে তাঁকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যান। পুলিশ ওই রাতেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন।

পরে ২৮ আগস্ট রূপার ভাই মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পুলিশ এরপর আসামি ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫), সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে তাঁরা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।

২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছেন। ৩১ আগস্ট রূপার লাশ উত্তোলন করে তাঁর ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে লাশ দাফন করা হয়।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech