খালেদার জামিনে এরশাদ প্রসঙ্গ

  

পিএনএস ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধীতা করে অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেইন মুহম্মদ এরশাদের পাঁচ বছরের জেল হয়েছিল। তিনি সাড়ে তিনবছর জেল খাটার পর বের হন। একজন রাষ্ট্রপ্রধান যদি এতদিন কারাগারে থাকতে পারেন তাহলে আরেকজন কেন জেল খাটবেন না।’

ভারতের লালু প্রসাদ যাদবের জেল খাটার বিষয়টিও উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন অ্যার্টনি জেনারেল। এসব প্রসঙ্গ টেনে আনার পর অ্যার্টনি জেনারেলকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘এখানে দেখার বিষয় হলো জনতা টাওয়ার মামলায় এরশাদ জামিন চেয়েছিলেন কি না? এক সরকার প্রধান জেল খেটেছে বলে এরকজনকে কারাগারে থাকতে হবে এটা শুনানির কোনো যুক্তি হতে পারে না। এটা টকশোর বক্তব্য হতে পারে।’

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহমি ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এসব কথা বলা হয়। খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আসামি, রাষ্ট্র ও দুদকের আইনজীবীদের প্রায় এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট শুনানি হয়। এরপর নথি পাওয়া গেলে আদেশ দেয়া হবে বলে শেষ করা হয় আদালতের কার্যক্রম।

শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আবেদনকারীর বয়স ৭৩ বছর। তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তিনি অসুস্থ। তিনি একজন নারী। এছাড়া এ আদালতের অনেক নজির রয়েছে লঘু সাজা হলে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করার আবেদনের সময় জামিন আবেদন করা হয়। আদালত জামিন দিয়ে থাকেন। এ কারণে আমরা জামিন প্রার্থনা করছি। আমাদের সব যুক্তি আবেদনে উল্লেখ করা আছে। সেগুলো বলে আদালতের সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না।

তিনি বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত দুদককে যুক্তিসংগত সময় দিয়েছেন। তাই আজ আদালতের কাছে জামিন দেয়ার আর্জি জানাচ্ছি। ৪০৯/১০৯ ধারায় শাস্তি হয়েছে। তার বয়স, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন। আদালতের এখতিয়ার রয়েছে জামিন দেয়ার।

এরপর জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। তার পরে এজে মুহাম্মদ আলীর দেয়া জামিনের যুক্তির বিরোধীতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এই মামলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম মামলা যেখানে এতিমের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সেসময়কার রাষ্ট্রনায়ক বা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া এর দায় এড়াতে পারেন না।’

দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ করার পর সর্বশেষ খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্ন উদাহারণ দিয়েছে। জামিন না দেয়ার স্বপক্ষে আদালতের আদেশ দেখিয়েছেন। আপনার কাছে এরকম কোনো নজির আছে কি না? জবাবে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আদালতে অনেক নজির রয়েছে। আপিল অ্যাডমিশনের সময় কম সাজার ক্ষেত্রে জামিন দেয়া হয়। আমরাও তাই চাচ্ছি। আদালতের এখতিয়ার রয়েছে। এসময় তিনি একটি হত্যা মামলায় জামিন দেয়ার নজির তুলে ধরেন। বেলা ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত শুনানি হয়। এরপর দুই বিচারপতি বেশ কয়েক মিনিট নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ করেন। তারপর আদালত আদেশ দিয়ে এজলাস থেকে নেমে যান।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech