খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ কিছুক্ষণের মধ্যে

  


পিএনএস ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানি শেষ হয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ রায় প্রদান করা হতে পারে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে আদেশের এ দিন ধার্য করেন। আজ সকালেই বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।

কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালত কক্ষে গতকাল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। শুরুতে লিভ টু আপিলের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, এর পক্ষে তার আইনজীবীরা চিকিৎসা সনদ আদালতে উপস্থাপন করেননি। তিনি জামিনের অপব্যবহার করেছেন। আদালতের অনুমতি না নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় তিনি বারবার অনুকম্পা পেতে পারেন না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ হবে, আর তার সঙ্গে জড়িত থাকবেন রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি, তিনি কোনো অনুকম্পা পেতে পারেন না। তিনি বলেন, হাইকোর্ট চার মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন পেপার বুক তৈরি করার জন্য। আপনারা (আপিল বিভাগ) সময় কমিয়ে দুই মাস করে দেন। জামিন দিলে আপিল শুনানিতে বিলম্ব হবে।

রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের বক্তব্য শেষ হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, সম্প্রতি দুদকের একটি মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়েছে। হাইকোর্ট আসামিকে জামিন দিয়েছেন, আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেননি। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ও দুদক একই কথা বলছেন। তারা তাড়াতাড়ি মামলা শেষ করতে চাইছে, অথচ উচ্চ আদালতে লাখ লাখ মামলা রয়েছে। সেগুলো বাদ দিয়ে এটা করতে চাচ্ছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে আপনারা হস্তক্ষেপ করবেন। তিনি বলেন, এ মামলায় জাল নথি তৈরি করে খালেদা জিয়াকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তার কোথাও কোনো স্বাক্ষর নেই। সম্পূর্ণভাবে জাল নথি তৈরি করে এ মামলা করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই কেসে খালেদা জিয়া না থাকলে মামলা এত দূর আসত না। সরকার ও দুদক এত কিছু করত না। এটা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, তাই এত কিছু। এখন জামিন দেয়া বা না দেয়া আদালতের এখতিয়ার। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে সব নাগরিক সমঅধিকার বা সমবিচার পাওয়ার অধিকারী। আজ এই মামলা যদি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে না হতো, তা হলে পাঁচ বছরের সাজায় হাইকোর্ট কর্তৃক দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক বা সরকার আপিল বিভাগে আসত না। হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ কারণ উল্লেখ করে জামিন দিয়েছেন, আপিল বিভাগ কর্তৃক তা বাতিলের কোনো প্রশ্ন আসে না।

শুনানিতে যা বলেছেন আদালত ও আইনজীবীরা : গতকাল সকালে শুনানির শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে যে চারটি যুক্তিতে জামিন দিয়েছেন এর প্রথমটি হলো- খালেদা জিয়া জামিনের অপব্যবহার করেননি। অথচ তিনি বিচারিক আদালতের অনুমতি না নিয়েই বিদেশে গেছেন। তিনি বলেন, তিনি বয়স্ক মহিলা এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ এ কারণে বিচারিক আদালত ১০ বছরের সাজা না দিয়ে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া সমীচিন মনে করেছেন।

এ সময় আদালত বলেন, এটি কি বিচারিক আদালত গ্রহণ করেছেন? জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, হ্যাঁ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ১০ বছরের সাজা না দিয়ে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে।

এ সময় আদালত বলেন, পাঁচ বছরের সাজা দেয়ায় উনার শারীরিক অবস্থা কি ভালো হয়ে গেছে?

জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, এ মামলায় রায়ের আগে ও পরে তিনি দুই মাস ২৫ দিন কারাগারে আছেন। হাইকোর্টে উনাকে চার মাসের জামিন দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। পেপারবুক প্রস্তুত হলে শুনানি হোক সে পর্যন্ত তিনি জেলে থাকুন। আপিল নিষ্পত্তি হলে তিনি আবার জামিন চাইতে পারবেন।
তখন আদালত বলেন, এই উপমহাদেশে জয়ললিতা, লালুপ্রসাদ যাদব কতদিন কারাগারে ছিলেন? জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, জয়ললিতার দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সুপ্রিম কোর্টেও এ রায় বহাল ছিল। তার সহযোগী শশীকলা এবং আরেকটি মামলায় লালু প্রসাদ যাদব এখনো কারাগারে আছেন। কাজেই দুই মাস ২৫ দিনের মধ্যে জামিন পাবেন এ টা ঠিক হবে না।

এপর্যায়ে অ্যাটির্নি জেনারেল বলেন, আমি সারসংক্ষেপ বলতে চাই। এই বলে তিনি মামলার বিস্তারিত পড়া শুরু করলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আপত্তি জানিয়ে বলেন, এখন তো আপিলের শুনানি হচ্ছে না। মামলার মেরিটে যাওয়ার দরকার কি?

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা মামলাটি একটু ভালো করে শুনি। আপনারাই বলেছেন, আমরা গত দিন শুনি নাই। আমরা আপনাদের কথা পরে শুনবো। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারিক আদালতের রায়ে একজন সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, এতিমখানার টাকা উত্তোলনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অনুমোদন ছিল। এফডিআর করা নিয়ে একটা মামলাও হয়। কিভাবে বিদেশ থেকে টাকা এলো, কিভাবে এফডিআর হলো। তারা জমি কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল কিন্তু যখন জমি পাচ্ছিল না তখন তারা জমির জন্য চাপ না দিয়ে টাকা ফেরত চেয়েছে।

এ সময় আদালত জানতে চান মামলাটি কখন হয়েছিল? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০০৯ সালে হয়। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মামলার ধারাবাহিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বিচার বিলম্বিত করতে তারা এমন কোনো পথ নেই যে অবলম্বন করেননি। এ মামলা যেন বাস্তবে না আসে সে জন্য তারা বেশ কয়েকবার উচ্চ আদালতে বিভিন্ন অজুহাতে আসেন। এটা আপিল বিভাগেও গড়ায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অজ্ঞাতে টাকা এসেছে বা তোলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এটা ঠিক না।

তিনি হাইকোর্ট যে চারটি যুক্তিতে জামিন দিয়েছেন সে বিষয়ে বলেন, তাকে স্বল্প মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। আর আপিল শুনানি হবে না এটা অযৌক্তিক। আমাদের এ কোর্টে বিডিআর মামলায় ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। আমরা হাজার হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক তৈরি করেছি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং বয়স্ক নারী। এ বিবেচনায় তাকে দশ বছরের সাজা না দিয়ে পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন বিচারিক আদালত। একজন আসামিকে কতবার এই সুবিধা দেয়া হবে। এখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা প্রযোজ্য হবে। ৪২৬ ধারা নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দয়া এবং বারবার অনুকম্পা দেখানো ঠিক হবে না। কোনো রাষ্ট্রেই এটা দেখানো হয়নি।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, লালুপ্রসাদের সাথে কি এ ঘটনার মিল আছে? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টেও তার জামিন খারিজ হয়েছিল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে অসুস্থ বলা হচ্ছে কিন্তু তিনি মিটিং করছেন, সমাবেশ করছেন, বিদেশ যাচ্ছেন সব কিছু করছেন। আজকে যদি জামিন দেয়া হয় তাহলে আপিলের শুনানি অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের বক্তব্য শেষ হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় হাইকোর্ট জামিন দিতে পারেন, এটা হাইকোর্টের এখতিয়ার। জামিন দেয়াটাই স্বাভাবিক। হাইকোর্ট লঘুদণ্ডের কারণে জামিন দিয়েছেন। জামিন না দেয়ার নজির খুবই কম। সাধারণত দেখা যায়, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের জামিনের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হয় না। সীমিত ক্ষেত্রে আপিল বিভাগকে হস্তক্ষেপ করতে দেখা গেছে। যদি ন্যায়বিচার বিঘিœত হয় সে ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করতে পারেন। হাইকোর্ট হচ্ছে এ ধরনের মামলায় জামিন দেয়া বা না দেয়ার স্বাভাবিক কর্তৃপক্ষ। এ পর্যায়ে আদালত বিরতিতে যান। বেলা সাড়ে ১১টায় শুনানি আবার শুরু হলে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, ৪২৬ ধারায় মামলার সারবত্তা যাচাই করা হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। হাইকোর্টে আবেদন আসবে তারা এটা পুরোটাই দেখবে। তারপর তারা জামিন দেবে কি দেবে না সিদ্ধান্ত জানাবেন। আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করে না যদি এখানে বিচারের বিচ্যুতি না ঘটে।

এ সময় বিচারপতি ইমান আলী জানতে চান বিচারিক আদালত দণ্ড দিলে হাইকোর্ট কি দণ্ড দিতে পারে? জবাবে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, অনেক মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। আপিল বিভাগ এটাতে হস্তক্ষেপ করেননি। তিনি বলেন, রায়ের কোথাও বলা হয়নি খালেদা জিয়া অর্থ আত্মসাতে জড়িত। তার (খালেদা জিয়া) স্বাক্ষর ছিল, কোথাও তাও বলা হয়নি। এটা পরিষ্কার যে এ ধরনের জামিনের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেনি।

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে সাজা একটি দিক, আপিল হচ্ছে আরেকটি দিক। সাজা যদি কমে তাহলে ভারসাম্যের ওপর জোর দিতে হবে। লাখ লাখ সাধারণ মামলা ছেড়ে দিয়ে এটাকে সামনে আনা হচ্ছে। এটাকেই আগে শুনতে হবে। উনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) অনেক বড় গল্প বললেন। আমি এটার জবাব দেয়া সমীচিন মনে করি না। মামলাটি আদালতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলুক। আমি মনে করি হাইকোর্টের জামিনের সিদ্ধান্ত সঠিক।

এ সময় আদালত আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত পরশু একটি রায়ে এতিমখানার জায়গায় নির্মিত ১৮ তলা একটি ভবন এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে বলেছেন। এ মামলাতেও এতিমদের টাকা উধাও হয়েছে। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেন, শেখ হাসিনার মামলায় সরকার বা দুদককে এভাবে আসতে দেখিনি। যতটা এ মামলায় দেখছি।

শুনানিকালে আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা : খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের শুনানিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মাজারগেট, মূলগেটসহ সুপ্রিম কোর্টে প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সকালে আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। সাধারণ কোনো দর্শনার্থীকে আদালতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমনকি আদালতে মামলা আছে এবং হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন আছে বলে আনুরোধ করার পরও গতকাল সকালে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। মাজার গেটের কাছে রায়ট ভ্যান এবং জলকামান রাখা হয়। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের সর্বত্র পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য, ডিবি পুলিশ এবং সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ উপস্থিত ছিল। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন থেকে আপিল বিভাগে যাওয়ার পথেও আইনজীবী ও সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছে।

লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা আদালতে বারবার বলেছি আপিলটার শুনানি হোক। চার মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমি বলেছি, প্রয়োজনে আরো সংক্ষিপ্ত সময় বেঁধে দেয়া হোক আপিলের পেপারবুক তৈরি করার জন্য। আড়াই মাস জেলে আছেন বাকি দুই-তিন মাসের মধ্যে আপিল শুনানি হয়ে যাবে। তারপরও আপিল শুনানি করে উনি যদি মুক্ত হতে পারেন ভালো কথা।

অপর দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, উপমহাদেশে এবং আমাদের দেশে যতগুলো সিদ্ধান্ত আছে সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগ যদি কোনো জামিন আবেদন গ্রহণ করেন, জামিন দেন এবং সেখানে যদি কারণ উল্লেখ করে জামিন দিয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে সাধারণত আপিল বিভাগ কোনো হস্তক্ষেপ করেন না। আমরা মনে করি, আইনগত যে দিকগুলো আমরা আদালতে তুলে ধরেছি ইনশাআল্লাহ সবই আমাদের পক্ষে। দুদক-রাষ্ট্রপক্ষ এর কোনো কনট্রোভার্ট করতে পারেনি। ফলে আমরা আশা করি হাইকোর্ট যে জামিন দিয়েছেন সেটি বহাল রাখবেন আপিল বিভাগ।

গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষে পৃথক দু’টি লিভ টু আপিল আবেদন করা হয়। আগের দিন বুধবার দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল আবেদন দায়ের করতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ। একই সাথে রোববার পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করা হয়। গত সোমবার চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech