ইডেন কলেজ ছাত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপকারীর যাবজ্জীবন - আইন-আদালত - Premier News Syndicate Limited (PNS)

ইডেন কলেজ ছাত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপকারীর যাবজ্জীবন

  


পিএনএস ডেস্ক: ইডেন কলেজছাত্রী শারমিন আকতার আঁখিকে এসিড নিক্ষেপের মামলায় মনির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এ রায় দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাসুম নামে অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ছুরিকাঘাত করায় দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় মনিরকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায় তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, জরিমানার টাকা মামলার ভিকটিম পাবেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি ইডেন কলেজে যাওয়ার পথে চানখাঁরপুল মোড়ে পৌঁছালে আসামিরা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে আঁখি রাজি না হওয়ায় তার মাথায় ও মুখে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। এ ছাড়াও কাছে থাকা ছুড়ি দিয়ে হাতের কব্জিতে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান আসামিরা।

পরে এ ঘটনায় আঁখির ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ বংশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ এসিড অপরাধ দমন আইন ও দণ্ডবিধি আইনে আসামি মনির ও মাসুমের নামে দুইটি চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন ২১ জন।

প্রসঙ্গত, রাজধানীতে বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা নিয়ে কথা কাটাকাটির পর প্রেমিক মনির উদ্দিন ও তার সহযোগী মাসুম ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে এসিডে ঝলসে দিয়েছিল। ঘটনার শিকার ছাত্রীর নাম শারমিন আক্তার আঁখি (২০)। তিনি ইডেন কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্রী।

২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার দিকে চাঁনখার পুলের একটি কাজী অফিসের ভেতরে এ ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসক।

জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে ইডেন কলেজের ছাত্রী শারমিন আক্তার আঁখির প্রেমিক মনির উদ্দিন তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে টিএসসি এলাকায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে তারা বিয়ে করার উদ্দেশ্যে চাঁনখারপুল মোড়ে অবস্থিত কাজী অফিসে যান। সেখানে বিয়ের দেনমোহর ধার্য নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে আঁখি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মনির ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঁখিকে কোপানোর পর এসিড নিক্ষেপ করে তার শরীর ঝলসে দিয়ে পালিয়ে যান। অাঁখির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে তাদের সহযোগিতায় পুলিশ আঁখিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছে অাঁখির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বংশাল থানার এএসআই বিশ্বজিৎ সূত্রধর জানিয়েছেন, আহতাবস্থায় শারমিন আক্তার অাঁখি জানিয়েছে, প্রেমিক মনির উদ্দীন ও তার এক সহযোগী মাসুম তাকে কাজী অফিসের ভেতরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর শরীরে এসিড ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ছাত্রীটিকে বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তার সারা শরীর এসিডে ঝলসে গেছে বলেও জানান তিনি।

ইডেন কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্রী শারমিন আক্তার আঁখির পিতার নাম সৈয়দ আহমদ। গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায়। পলাতক প্রেমিক মনির উদ্দিন একটি ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি রাজধানীর সার্কিট হাউজের অফিসার্স কোয়ার্টারে থাকতেন।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এসিডদগ্ধ আঁখি সাংবাদিকদের জানান, মনির তাকে বিয়ে করার জন্য জিম্মি করে চাঁনখারপুলস্থ কাজী অফিসে নিয়ে যায়। এরপর বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। এতে তিনি রাজী না হলে মনির ও তার সহযোগি মাসুম ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এরপর তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech