সেই ইমাম ৫ দিনের রিমান্ডে

  


পিএনএস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঁদমারিতে মসজিদের ভেতর আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় ওই মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমানের (৪৫) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে এই আদেশ দেন।

একই সঙ্গে বাকি পাঁচ আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতারদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে হাজির করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত মূল অভিযুক্ত ফজলুর রহমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ও অপর পাঁচ আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত ইমাম ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া সরাপাড়া এলাকার মৃত রিয়াজউদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার চাঁদমারি এলাকার বায়তুল হাফেজ মসজিদে ইমামতি করছেন।

এর আগে বুধবার ফতুল্লার চাঁদমারির এনায়েতনগর এলাকায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১।

পরে ওই দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানর পর র্যাব জানায়, নির্যাতনের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসায় ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। শিশুটি রাতের বেলায় দুঃস্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করত। বিভিন্ন প্রকার কবিরাজি চিকিৎসা করে ভালো না হওয়ায় ওই শিশুর বাবা জানতে পারেন যে, ইমাম মো. ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিশুর বাবা তার মেয়েকে এর আগে ২ থেকে ৩ বার ফজলুর রহমানের কাছে ঝাঁড়ফুক করিয়ে নেন। তারপরও তেমন উপকার না হওয়ায় ফজলুর রহমান ওই শিশুর বাসায় গিয়ে ‘বাড়ি বন্দি’ করে আসেন। পরে ঘটনার আগের দিন মাগরিবের সময় ওই শিশুর বাবা ফজলুর রহমানকে ফোন দিয়ে মেয়ের চিকিৎসার ব্যাপারে আসতে চাইলে সে পরের দিন ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে আসতে বলে।

পরদিন সকালে ওই শিশুর বাবা মেয়েকে নিয়ে মসজিদে যান। ফজরের নামাজের পর শিশুটি ও তার বাবাকে নিয়ে মসজিদের ৩য় তলায় ইমামের বেড রুমে নিয়ে যান। এরপর হালকা ঝাড়ফুঁক করে পরিকল্পিতভাবে ওই শিশুর বাবাকে ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেন ইমাম। ওই সময় দোকানপাট খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা কোনোভাবেই মমবাতি ও আগরবাতি কিনতে পারছিলেন না। এর মধ্যে সময় ক্ষেপণ করার জন্য ফজলুর রহমান শিশুটির বাবাকে ফোন করে একটি পান আনতে বলেন ও মসজিদের মোয়াজ্জিনকে নিচের গেটে তালা মারতে বলেন।

ভিকটিমের বাবা ফিরে আসতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় নেন। এর মাঝে শিশুটির দুই হাত পেছনে বেঁধে ও মুখে টেপ মেরে নির্মমভাবে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দেয়া হয়। এরপর শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা-মাকে বিষয়টি না বলার জন্য হুমকি দেয়া এবং বললে জবাই করে ফেলবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়। শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়া করে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেয় ইমাম।

এরপর শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা-মাকে সবকিছু খুলে বলে। একপর্যায়ে শিশুটি ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবারটি শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে এসে বিচার দিলে মসজিদ কমিটির কিছু লোক ও ইমামের ভক্তরা তাদের মারাত্মকভাবে হেনস্থা করে। ইমাম ফজলুর রহমান তার অনুসারীদের দিয়ে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যাতে ভুক্তভোগী পরিবারটি থানা বা হাসপাপতালে যেতে না পারে। এরপর শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে গোপনে ভর্তি করা হয়।

ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করতে কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে তার বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা হাসপাতালের নার্সের বোরকা পরে র্যাব অফিসে এসে অভিযোগ দেন। শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা ও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে ফজলুর রহমানের অনুসারী পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পিএনএস/ হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech