ধর্ষণ মামলার বয়ান পাল্টে সাক্ষীরা বললেন ‘কিছুই জানেন না’!

  

পিএনএস ডেস্ক : মানছুরা বেগম ও আলেকজান বেগম। একটি ধর্ষণ মামলার সাক্ষী। গত বছর ২৯ জুন শরীয়তপুরের জাজিরার একটি মহাবিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীকে তারাই উদ্ধার করেছিলেন। ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষীও ছিলেন তারা দুজন। এক বছর ৫ মাস পরে ওই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রমে নিজেদের বয়ান পাল্টে ফেলেছেন দুজনই!

আজ রোববার শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করতে এসে মানছুরা বেগম ও আলেকজান বেগম জানান, গতবছরের ওই ধর্ষণকাণ্ডের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না! প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ এ দুই সাক্ষীর এমন বয়ানে স্তম্ভিত হয়ে আদালতে বারান্দায় কান্নায় লুটিয়ে পড়েন ভুক্তভোগী তরুণী।

ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির নাম মাসুদ ব্যাপারী (৩২)। তিনি শরীয়তপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। তাকে ও তার সহযোগী শরীফ সরদারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী।

জাজিরা থানা, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই তরুণী জাজিরার একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। পড়ালেখার পাশাপাশি উপজেলা সদরের একটি রোগনির্ণয়কেন্দ্রে কাজ করতেন তিনি। গত বছরের ২৯ জুন সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন অভিযোগযুক্ত মাসুদ। ঘটনার পর তরুণীকে উদ্ধার করেছিলেন মানছুরা বেগম ও আলেকজান বেগম। ওই সময় তারা গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। এমনকি গত বছরের ১১ জুলাই তারা শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন। অথচ আজ রোববার দুজনই তাদের বয়ান পাল্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ঘটনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষীদের বয়ান শুনেই কাঁদতে শুরু করেন ভুক্তভোগী। কাঁদতে কাঁদতে আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে পড়েন, মেয়ের কান্না দেখে মা-বাবাও কাঁদতে থাকেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা এ সময় এগিয়ে গেলে ওই তরুণী বলেন, তার জীবন শেষ হয়ে গেছে, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা, পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও আদালতে বিচার চাইতে এসে প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তিনি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় হুমকি দিচ্ছে। এ সময় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘গরিব বলে কি বিচার পাব না? সঠিক বিচার না পেলে এই জীবন রাখবেন না বলেও জানান ওই তরুণী।

তরুণীর বাবা জানান, তার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। থানায় তারা জিডিও করেছেন। আসামির পরিবার প্রভাব বিস্তার করে সাক্ষীদের প্রভাবিত করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মির্জা হযরত আলী। তিনি জানান, আদালতের বাইরে আসামিরা হয়তো সাক্ষীদের প্রভাবিত করেছেন, যে কারণে তারা আগের বয়ান বদলে থাকতে পারেন। সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিনে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন।’

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন