পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  

পিএনএস ডেস্ক : সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পলাতক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এ ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।

দুদক কৌঁসুলি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত ২৬ নভেম্বর মৌখিকভাবে পরোয়ানার আদেশ হয়। তবে সেই আদেশ প্রস্তুত হওয়ায় বুধবার তা স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন করেছিল আইএলএফএসএল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিলেন- পিকে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে। পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানায়।

পিকে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল’র পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

সার্বিক বিবেচনায় প্রশান্ত কুমার (পিকে হালদার) হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পিকে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের আইজি এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকাবস্থায় পিকে হালদার যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান সে বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে আর তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে ফেরেননি।

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে থাকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারকে গ্রেপ্তার করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা ইন্টারপোটেল সহযোগিতা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এদিকে দুদক সূত্রে জানা গেছে, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা গত ১০ আগস্ট দুদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবে এসব অর্থের লেনদেন হয়েছে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা পাচারেরও অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

পিএনএস/এসআইআর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন