কুকিজ বিস্কুটে সফলতার শুরু কিষোয়ান গ্রুপের

  

পিএনএস: কাস্টার্ড কেক উৎপাদন দিয়ে ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে কিষোয়ান স্ন্যাকসের যাত্রা শুরু। কেক উৎপাদনে ভালো সফলতার পর কুকিজ বিস্কুট উৎপাদনে মনোযোগ দেন শহীদুল ইসলাম। সেখানেও মিলল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁর। জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে নির্দিষ্ট পণ্যের মধ্যে ব্যবসা সীমিত রাখেননি তরুণ এই ব্যবসায়ী। কুকিজ বিস্কুটে যেমন দিয়েছেন ভিন্ন স্বাদ, স্বাদে-মানেও এনেছেন বৈচিত্র্য।

এক যুগের ব্যবধানে কাস্টার্ড কেক থেকে শুরু করে বিস্কুট, কুকিজ বিস্কুট, ফ্রুট ড্রিংকস, গুঁড়া মসলা, চাটনি, জ্যাম ও জেলি, ক্যান্ডি, সরিষার তেল ও ইনস্ট্যান্ট নুডলস, সেমাইসহ ৮০ ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে কিষোয়ান গ্রুপ। প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ হয়ে কিষোয়ান স্ন্যাকস, ফুডস থেকে কিষোয়ান অ্যাগ্রো ফুডস। চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে পণ্যের বিপণন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

কুকিজ বিস্কুট উৎপাদনে কিষোয়ান গ্রুপ দেশে প্রথম এবং অত্যন্ত সফল উল্লেখ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘অলিম্পিক ও অন্যান্য গ্রুপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দিয়ে দেশের মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ কুকিজ আমরা উৎপাদন করছি। দিনে গড়ে পাঁচ টন উৎপাদন সক্ষমতার অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে উৎপাদিত কুকিজ পণ্যের ৭০ শতাংশই রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান, কাতার, দুবাই, সৌদি আরব, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ ১৮টি দেশে।’

বিস্কুট উৎপাদনে অলিম্পিক, হক ও প্রাণের মতো বড় শিল্প গ্রুপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কিষোয়ান গ্রুপ এখন সারা দেশে পণ্য বাজারজাত করছে সফলতার সঙ্গে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও বিপণনে প্রায় এক হাজার ২০০ কর্মী নিরলসভাবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানান শহীদুল ইসলাম।

সফলতার মূল মন্ত্র হিসেবে শহীদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘পণ্য উৎপাদনে মান, দাম ও স্বাদ এই তিন বিষয়ে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চকোলেট আনি অস্ট্রেলিয়া থেকে, অন্যান্য উপকরণ আনি মালয়েশিয়া থেকে। ফলে আমাদের পণ্য কেউ একবার স্বাদ নিতে পারলেই সেটা আর ছাড়ে না।’

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বাবা বনফুল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেবের কাছ থেকে শেখা অভিজ্ঞতাও এই ব্যবসায় সফল হতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এখনো বিভিন্ন দেশে গেলে কাপড়ের বদলে বিখ্যাত ব্র্যান্ডের বিস্কুট নিয়ে আসি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আমাদের কোয়ালিটি টিম দেশের মানুষের চাহিদার উপযোগী করে তৈরি ও বাজারজাত করে।’

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘৫০০ কেজি উৎপাদন সক্ষমতা দিয়ে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও এখন কুকিজ বিস্কুটই উৎপাদন করছি প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ টন। ব্যবসাকে আমরা সম্প্রসারণ করছি নানা বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে। চট্টগ্রামের মধ্যে উৎপাদন সীমাবদ্ধ না রেখে নাটোরে গিয়ে মসলা প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপন করেছি, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ টন। আর কুমিল্লায় স্থাপন করছি সর্বাধুনিক ইতালি প্রযুক্তির বেভারেজ বা পানীয় কারখানা। যেখানে প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ হবে ৮০ কোটি টাকা।’

তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের বিস্কুট তৈরি হচ্ছে দেশে। দেশে উৎপাদন বাড়ায় আমদানিও কমে গিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। আমার মতো অনেকেই এভাবে দেশকে স্বাবলম্বী হতে ভূমিকা রাখতে চাই। এ জন্য তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে সরকারি সহযোগিতা দরকার।’



পিএনএস/বাকিবিল্লাহ্

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech