বিয়ের আগেই আগুন কেন?

  

পিএনএস ডেস্ক:২৪ বছরের অস্ট্রেলীয় যুবতী টিয়ার্না টমসনের স্বপ্ন ছিল বালির নৈস্বর্গিক সৈকতে তাকে ‘‌আই ডু ’‌ বলবেন তার ভাবী স্বামী জাস্টিন। কিন্তু ‌৫০ বছর পর ঘুম ভেঙে উঠে আগ্নেয়গিরি আগুং তাদের সেই স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকেই ঘন কালো ধোঁয়া, ছাই, লাভা, পাথরের স্রোত নেমে আসছে আগুংয়ের ঢাল বেয়ে। লাগোয়া অঞ্চল খালি করে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরাচ্ছে প্রশাসন।

সোমবার থেকে বন্ধ থাকার পর বুধবার বালি বিমানবন্দর খোলা হলেও সেখানে এখন ফেরার ভিড়। বাধ্য হয়েই তাই বিয়ের মণ্ডপ তাইল্যান্ডে সরাচ্ছেন টিয়ার্না–জাস্টিন। টিয়ার্নার আক্ষেপ, গত ৫০ বছর পর্যন্ত যখন ঘুমিয়েই ছিল আগুং তখন তাদের বিয়ের দিনটুকু পর্যন্ত তো সে অপেক্ষা করতেই পারত।

ভূবিজ্ঞানীরা বলেছেন, এখনও আগুংয়ের মূল গহ্বরে বিস্ফোরণ হয়নি। খুব শিগগিরিই তা হতে পারে। বালি প্রশাসন বলছে, যেহেতু এটা বিয়ের মাস এবং সামনেই ক্রিসমাস, তাই প্রায় প্রতি বছরই এই সময়ে বালিতে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। প্রায় ৬৬৫ মার্কিন ডলার আয় হয় বালি পর্যটন দপ্তরের। কিন্তু আগুংয়ের কীর্তিকলাপ তাতে পুরো জল ঢেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যটন দপ্তর।

বালিতে এখনও কমপক্ষে ১,২০, ০০০ পর্যটক ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। সরানো হয়েছে কমপক্ষে ১০,০০০ স্থানীয় বাসিন্দাকে। কিন্তু নিজেদের সম্পত্তি এবং গবাদি পশুর সন্ধানে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন আগুংয়ের কাছে। এ ছাড়া কয়েকদল অত্যুৎসাহী পর্যটক আগ্নেয়গিরিকে আরও কাছ থেকে দেখার চেষ্টায় আগুংয়ের দিকে যাচ্ছেন। তাদের নিয়েও যাচ্ছে কিছু পর্যটন সংস্থা। যা নিয়েও চিন্তিত প্রশাসন।

ইন্দোনেশিয়ার বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা মনে করছে, এধরনের বিপজ্জনক ভ্রমণের জন্য কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ব্যবস্থা অবিলম্বে করতে হবে। বালির ডুবুরি বিভাগের এক কর্মী বললেন, অন্যান্য বছর, এই সময় তারা দিনে ২০ জন পর্যটকদের নিয়ে যান। সেখানে এবার এপর্যন্ত এসেছেন মাত্র দুজন। শুধু আগুংই নয়, ঘুম ভাঙছে সুমাত্রার আগ্নেয়গিরি সিনাবাংয়েরও। গত ২০১৩ সাল থেকেই সক্রিয় হতে শুরু করেছে সিনাবাং।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech