অদ্ভুত বালক: প্রতি ছয় মাসে বদলে যায় শরীরের চামড়া!

  

পিএনএস ডেস্ক: নাম তার জগন্নাথ প্রধান। আর দশটা সাধারণ বালকের মতো নয় সে। তার অদ্ভুত চেহারা যে কোনো মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিতে পারে। বিরল রোগে আক্রান্ত এই বালক ছয় মাস পর পর সাপের মতো খোলস বদলায়। পুরান চামড়ার বদলে দেখা মেলে নতুন চামড়া। শুনতে খুব সহজ মনে হলেও বিষয়টি অত সহজ নয়। খুব কষ্টে সময় পার করছে জগন্নাথ।

ভারতের ওড়িশ্যার গাঞ্জাম জেলার বালক জগন্নাথ প্রধান। বয়স মাত্র ১০ বছর। সাপ যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় পর খোলস ছাড়ে, অনেকটা তেমনই চামড়ার বদল হয় তার।

ডাক্তারি বিদ্যায় জগন্নাথের এই রোগের নাম ‘ল্যামেলার ইচথিয়োসিস’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যন্ত বিরল রোগের মধ্যে পড়ে এই রোগ। পৃথিবীতে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৬ লাখ।

জগন্নাথের এই রোগটি কয়েক বছর আগে দেখা দেয়। একসময় বাবা-মা খেয়াল করেন ছোট্ট শিশু জগন্নাথের চামড়া ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে । এরপর একটা সময়ে সাপের খোলস ছাড়ার মতো উঠে যাচ্ছে তার চামড়া।

বিষয়টি একসময় ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ত্বকের শুষ্কতা এতটাই বাড়তে থাকে যে ছোট্ট শিশুটির নড়াচড়া করার মতোও অবস্থা ছিল না। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন বছরের পর বছর। ডাক্তারের দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি।

ছেলের কষ্ট সহ্য করতে পারেন না বাবা-মা। জগন্নাথ যখন অসহ্য যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠে তখন তার কষ্ট কিছুটা লাঘবের জন্য শুষ্ক ত্বকে ময়েশ্চারাইজার মাখা হয় কিছুটা নরম রাখার জন্য। তাতে কিছুটা স্বস্তি পেলেও আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে হয়।

একপর্যায়ে শক্ত হয়ে যায় জগন্নাথের শরীরের চামড়া। ধীরে ধীরে তা উঠা শুরু হয়। এই সময়টাতে সে মোটেই নড়াচড়া করতে পারে না। এমনকি চোখের পলকও ফেলতে পারেনা জগন্নাথ। ভীষণ কষ্টে তার দিন কাটে। নিরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছুই করার থাকে না বাবা-মার।

জগন্নাথের বাবা বলেন, ডাক্তাররা বাহিরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার কথা বলছেন কিন্তু আমি তো গরিব মানুষ। ছেলের এই কষ্ট নিরবে হজম করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নাই।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech