দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বব্যাংকের জোরালো ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

  

পিএনএস : দারিদ্র্য বিমোচন ও বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। আমাদের এই প্রয়াসে বিশ্বব্যাংক আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে- এ প্রত্যাশা করছি।’

সোমবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আর্ন্তজাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সমস্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা, ‘রূপকল্প ২০২১’ এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্য-অশিক্ষা এবং বঞ্চনামুক্ত ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত।’

‘আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।’

এ সময় পৃথিবীকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সফলতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ব পরিমণ্ডলে তুলে ধরার জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই। এ স্বীকৃতি আমাদের লক্ষ্য অর্জনের প্রয়াসকে আরো বেগবান করবে।’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা সহায়ক হবে।’
বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ়চেতা এবং পরিশ্রমী।’

‘প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট বহুবিধ দুর্যোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছে।’
‘দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ এখন অন্যান্য দেশগুলোর কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’ মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

মানব-উন্নয়ন সূচকে মধ্যম ক্যাটাগরির দেশ এবং মাথাপিছু আয় বিবেচনায় নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা সহসাই স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে বেরিয়ে আসবো এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।’

২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার চেষ্টার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সময় দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশের উপরে, যা হ্রাস পেয়ে ১৯৯১ সালে দাঁড়ায় ৫৬.৭ শতাংশে। আমরা বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। দেশে বর্তমানে চরম দারিদ্র্যের হার ৭.৯ শতাংশ।’

সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বেশ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে জাতীয় আয়ের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৪ শতাংশ, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৭.০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ’

জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তহবিল, বিশেষ করে ‘গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড’ অর্থ প্রদানের পদ্ধতিগত জটিলতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ু জনিত ক্ষতিগ্রস্থ দেশসমূহে অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরি।’

জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরো জোরালো করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব আজ সন্ত্রাস এবং সহিংস জঙ্গিবাদ নামক দু’টি অন্যতম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। যে কোন ধরণের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমার সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের জঙ্গিবাদ দমনে আমরা সক্ষম হয়েছি। জঙ্গিবাদের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে জঙ্গিবাদ দমন কার্যক্রমকেও আরও শাণিত করা হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রোমার, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।


পিএনএস/বাকিবিল্লাহ্


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech