কল-কারখানা নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলে যাওয়া উচিত

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বিদ্যুৎহীন অফিস করছি বেশ কদিন ধরে। দুপুরের পরই অতি প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ হাওয়া হয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিন এমনটা হয়। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় নিদারুণ কষ্ট করতে হয়। ঘর্মাক্ত বিব্রতকর অবস্থায় কাটে পুরোটা সময়।

অফিসে ঢুকে দেখি পাখাটা চলছে না। সহকর্মী হাফিজুল ইসলাম বললেন, পাখা চালালে কম্পিটার বন্ধ হয়ে যায়। রসবোধসম্পন্ন হাফিজুল ইসলাম ঘেমে-নেয়ে একাকার। দর দর করে তার গা থেকে ঘাম ঝরছে। আয়েশ করে বললেন, রামপালের বিরোধিতার কারণে নাকি বিদ্যুতের এই দশা।

রাজধানী ঢাকা প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সেগুনবাগিচায় এই যখন অবস্থা তখন সারা দেশের অবস্থা না বলাই শ্রেয়। বিদ্যুৎ নিয়ে একটি মহল প্রায়ই মিডিয়াসহ যত্রতত্র কথার খই ফোটায়। অথচ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের পাশে টানা পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

দায়িত্বশীল পদে আছে, তারাও হাজার হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলেন। এমনকি ঘটা করে রাজধানীর হাতিরঝিলে উৎসবও করেন, বাস্তবে খোদ রাজধানীতে বিদ্যুতের রফাদফা। মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, উৎপাদন যদি এতই হয়, তাহলে এমন লোডশেডিং কেন?

আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ ছাড়া নাগরিক জীবন অচল প্রায়। হেমন্তের এ দিনেও চৈত্রের মতো গরম পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার উপক্রম। এই সময়ে অফিস ও বাসায় বিদ্যুৎ না থাকায় নাগরিকরা দারুণ কষ্ট ভোগ করেন। শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা আরো করুণ।

আমাদের অফিসে আইপিএস থাকায় কিছুটা রক্ষা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে আইপিএসও বেঁকে বসে। তখন কম্পিউটারকে চাঙ্গা রাখতে পাখা, লাইট বন্ধ রেখে অতি প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয়। শুরুতে সহকর্মী হাফিজুল ইসলামের বর্ণনা দেয়া হলেও অফিসের অন্যদের অবস্থাও তাই।

রাজধানী ঢাকায় এই যখন অবস্থা তখন গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের অবস্থা সহজেই কল্পনা করা যায়। কারো কারো মতে, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ মাঝে-মধ্যে আসে। যথন তাদের দরকার তখন তা থাকে না। অর্থাৎ সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করার আসল সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না।

উৎপাদন ও উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অত্যাবশ্যক। অনেকে প্রায়ই খুব বড় গলায় বলেন, এগিয়ে যাওয়ার কথা। উন্নয়নের কথা। বলেন আরো অনেক কিছু। ঘন্টার পর ঘন্টা খোদ রাজধানীতে নিত্য বিদ্যুৎহীনতা সেটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বৈকি।

কল-কারখানাকে চলমান বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার বাইরে রাখার পরামর্শ অভিজ্ঞ মহলের। তারা নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে। অভিযোগ আছে, ইচ্ছামতো গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও এরা এসবের বিল ঠিকমতো পরিশোধ করে না।

প্রকৃতি, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনের ক্ষতি না করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সময়ের দাবি। সে দাবি পূরণে এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের চাকা চলমান রাখতে সোলার সিস্টেমকে সবক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতে বিদ্যুৎ নির্বিঘ্ন করা জরুরি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech