রবি-এয়ারটেল একীভূতে চূড়ান্ত অনুমোদন

  

পিএনএস: বাংলাদেশের দুই মোবাইল ফোন অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
এই অনুমোদনের ফলে একীভূত হওয়ার প্রায় সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে জানিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেছেন, এখন নির্ধারিত মাসুল ও ফি দিয়ে একীভূত হবে এ দুই অপারেটর।
তিনি বলেন, “আজ কমিশন বৈঠকে রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
একীভূত হতে ছোটখাট কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানালেও সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলেননি বিটিআরসি চেয়ারম্যান।
বাংলাদেশের দুই মোবাইল ফোন অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার প্রস্তাব গত অগাস্টে হাই কোর্টের অনুমোদন পায়।
একীভূত হওয়ার পর এই কোম্পানি পরিণত হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে; রবি নামেই বাজারে ব্যবসা করবে।
রবি ও এয়ারটেলের ব্যবসা এক হলে একীভূত কোম্পানির গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে চার কোটির বেশি, যা বাংলাদেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের এক-চতুর্থাংশ। পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে গ্রামীণফোন আছে সবার উপরে।
২০১৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রবি।
দুই অপারেটরের ব্যবসা একীভূত করতে ২৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর তা বিটিআরসিকে জানানো হয়। এ নিয়ে শুনানি করে বিটিআরসি কয়েকটি সুপারিশসহ মূল্যায়ন পাঠায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে।
সুপারিশে বলা হয়, এয়ারটেল তাদের থ্রিজি লাইসেন্সের মেয়াদ, অর্থাৎ ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের ২৫ শতাংশ মালিকানা বিক্রি করতে পারবে না।
এরপর গত ১৩ জুলাই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই কোম্পানির তরঙ্গ একীভূত করার ফি এবং মার্জার ফি বা মাশুল নির্ধারণ করা হয় ১০০ কোটি টাকা।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ১ অগাস্ট জানান, ওই মাশুলেই রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অনুমোদন দিয়েছে ।
বিটিআরসির কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, দুই কোম্পানির তরঙ্গ একীভূত করতে ৫০৭ কোটি টাকা গুণতে হতে পারে। বিষয়টি চূড়ান্ত হবে এয়ারটেলের কী পরিমাণ টুজি তরঙ্গ রবি একীভূত করবে তার ওপর।
২০১১ সালে টুজি লাইসেন্স নবায়নে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের যে মূল্য ছিল তা হিসাব করেই একীভূত তরঙ্গ মূল্যে ৫০৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ মেগাহার্টজ থ্রিজি তরঙ্গ একীভূত করতে কোনো ফি দিতে হচ্ছে না।
বর্তমানে রবির হাতে ১৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ এবং এয়ারটেলের ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে। এয়ারটেলের টুজি লাইসেন্সের মেয়াদ আছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
দুই অপারেটর একীভূত হওয়ার পর তরঙ্গ হবে ৩৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ।
বর্তমানে গ্রামীণফোনের হাতে ৩২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে, যা এককভাবে অন্য সব অপারেটরের চেয়ে বেশি।
রবির মালিকানা মালয়েশিয়াভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপের। অন্যদিকে এয়ারটেলের মালিক ভারতের ভারতি এয়ারটেল; তারা ওয়ারিদের ব্যবসা বাংলাদেশে কিনে নিয়েছিল।
এশিয়ার বড় টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে আজিয়াটা অন্যতম। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ভারত ও সিঙ্গাপুরেও তাদের ব্যবসা রয়েছে।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech