কবি ওমর আলীর ৭৭তম জন্মদিন আজ

  

পিএনএস: ‘এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’ খ্যাত বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ওমর আলীর ৭৭তম জন্মদিন আজ।

মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিন পালনের জন্য পাবনার ফোল্ডার কবিতা সংগঠনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান কবি ওমর আলী।

নির্লোভ, নিমোর্হ ও সাধাসিধে কবি ওমর আলী পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর কৃতি এই শিক্ষাবিদ ও কবি ১৯৩৯ সালের ২০ অক্টোবর পাবনা শহরের দক্ষিণের দূর্গম চরশিবরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এবং ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। লিখেছেন ৪৩টি কাব্যগ্রন্থ ও ২টি উপন্যাস। এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি, কুতুবপুরের হাসনাহেনা, খান ম্যানসনের মেয়ে প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

পঞ্চাশ দশকের অন্যতম প্রধান এই কবি পাবনা সদর উপজেলার পদ্মানদী তীরবর্তি নিভৃত পল্লী চরআশুতোষপুর গ্রামের নিজ বাড়ীতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন ২০১২ সালের ২৩ মার্চ থেকে।

২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকের শেষের পাতায় প্রকাশিত ‘অর্থাভাবে কবি ওমর আলীর চিকিৎসা হচ্ছে না’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে আমৃত্যু কবি ওমর আলীর চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নেন ল্যাব এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শামিম আহমেদ। এ ছাড়া পত্রিকার খবর পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককালীন দুই লাখ টাকা সহায়তা দেন।

অধ্যাপক ওমর আলী বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও সাহিত্য সাময়িকীতে নিয়মিত কবিতা লিখেছেন। তিনি ছিলেন দুই বাংলার সু-পরিচিত কবি। প্রেমের কবি হিসেবেও তার ছিল সুখ্যাতি।

বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচিত কবিদের নিয়ে বেশ কিছু যৌথ গ্রন্থেও তাঁর লেখা রয়েছে।

প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন — বন্দে আলী মিয়া পদক, আলাওল পদক, আবুল মনসুর আহমেদ পদক, রাজশাহী বিভাগীয় গুণীজন সম্মাননা পদক প্রভৃতি।
কাব্য সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে ‘এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো সদস্য ছিলেন।

কবি চিরায়িত বাংলার অপূর্ব সৌন্দর্য্য ও মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে অবিরত লিখে গেছেন। কবি আল মাহমুদ, কবি শামসুর রাহমান, কবি হাসান হাফিজসহ সমসাময়িক অনেক লেখক ও কবি তাঁর একান্ত বন্ধু। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সাহিত্য সাধনা করেছেন।

কবির ছোট ছেলে মফিজ সরোয়ার আলী জানান, ‘সমকালে খবর প্রকাশের পর থেকে তার বাবার মৃত্যু পর্যন্ত ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাদের সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পাবনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু, প্রফেসর শিবজিত নাগ, শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের যে ভাবে সহায়তা করেছেন এ জন্য কবি পরিবার কৃতজ্ঞ।’


পিএনএস/বাকিবিল্লাহ্


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech