আগামীকাল ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

  

পিএনএস: আগামীকাল ৩০ নভেম্বর ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।১৯৮৪ সালের এই দিনেসংগঠনটি আত্ম প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে সংগঠনের ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আজ বিকেলে মওলানা আবদুর রহীম রিচার্স ফাউন্ডেশন মিলনায়তনেআলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আজকের ইসলামী ঐক্য আন্দোলন সাবেক ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ [আইডিএল]।

এ আন্দোলনের পেছনে রয়েছে এতদাঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির শত শত বছরের লালিত স্বপ্ন- একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার বাসনা। সেই সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ দিনের ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন সমূহের অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার সঠিক দিগদর্শন। এর অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ.)। কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রাবস্থা হতে তিনি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর চিন্তধারার সাথে একাত্মতা পোষণ করে এতদাঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে জমায়াতের আপসকামী রাজনীতির পথ ও পদ্ধতির সাথে ভিন্ন মত পোষণ করে তিনি ভিন্ন ফরম রচনা করেন, যা প্রথমে আইডিএল এবং বর্তমানে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন নামে কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে।

আইডিএল ১৯৭৯ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ৬টি আসন লাভ করে এবং মওলানা আবদুর রহীমের নেতৃত্বে পার্লামেন্ট অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।

তখন থেকে তিনি উপলব্ধি করেন যে, প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ও প্রচলিত সংবিধানের অধীনে থেকে পার্লামেন্টে ইসলামের পক্ষে যত ভালো ভালো কথা বলা ও যুক্তি দেখানো হোক না কেন তাতে আর যাই হোক ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বরং এতে মানুষের গোলামির জিঞ্জিরকেই শক্ত করে গলায় বেঁধে রাখা হয়।

তিনি একথাও বুঝতে সক্ষম হন যে, ইংরেজদের প্রবর্তিত গণতান্ত্রিক ও প্রচলিত রাজনীতির মাধ্যমে কিছুসংখ্যক ব্যক্তির পক্ষে সংসদ সদস্য হওয়া হয়ত সম্ভব-হয়ত সম্ভব ক্ষমতার হস্তান্তরও, কিন্তু ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

এ পর্যায়ে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা দেন যে, পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠার বাহন গণতন্ত্র কিংবা কম্যুনিজম প্রতিষ্ঠার পথ সশস্ত্র পদ্ধতিতে আর যাই হোক ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রাসূলে করীম সা. প্রদর্শিত পথই একমাত্র পথ। আর তা হচ্ছে জনগণকে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় সচেতন করা তথা ‘গণসচেতনতা’ সৃষ্টি; সচেতন জনগণকে ইসলামী সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করা তথা ‘গণসংগঠন’ এবং সংগঠিত জনগণকে নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইসলামী ‘গণবিপ্লব’ সাধন করা।

এ চিন্তা ও চেতনাকে ভিত্তি করে ১৯৮৪ সালের ৩০ নভেম্বর আইডিএল-এর ‘গণতান্ত্রিক’ নাম পরিবর্তন করে বৃহত্তর ইসলামী জনগোষ্ঠির ঐক্যকে মুখ্য করে ‘ইসলামী ঐক্য আন্দোলন’ নামকরণ করা হয়। এতে দেশের ওলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী [তত্ত্বাবধায়ক] ইসলামী বিপ্লবী সরকার গঠনের দাবি জানানো হয়। প্রস্তাব করা হয় যে, এ সরকার হক্কানী ওলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র’ প্রণয়ন কমিটি গঠন করবে।

উক্ত কমিটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশের জন্য একটি কল্যাণকামী ইসলামী সংবিধান রচনা করবে। আর রেফারেন্ডামের মাধ্যমে উক্ত সংবিধানের বৈধতা প্রদান করা হবে। অত:পর প্রণীত ইসলামী সংবিধানের অধীনে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের হাতে ইসলামী বিপ্লবী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীমের ইন্তেকালের পর থেকে অদ্যাবধি এ সংগঠন এই চিন্তাধারা পোষণ করে এ ভূখন্ডে ইসলামী সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে নিরলস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech