হাসিনাকে পাশে পেতে ‘তিস্তায়’ কোমর বেঁধে নেমেছে দিল্লি

  


পিএনএস ডেস্ক: চির বৈরি ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উরি হামলার প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের সার্ক সম্মেলন বয়কট করেছে দিল্লি। একই সঙ্গে ঢাকাও দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ সহযোগিতা ফোরামের সম্মেলনে যেতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার আবারও সন্ত্রাস প্রশ্নে ভারতের পাশে থাকার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অবস্থায় তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে কোমর বেঁধে নেমেছে দিল্লি। তবে রাজ্য সরকার তথা মমতাকে সঙ্গে রেখেই এগুতে চাইছে মোদি সরকার। বাংলাদেশও চায়, মমতার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এগুতে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভায় ঢাকাকে এ বার্তা দেয়া হয়। একই সঙ্গে বার্তাটি মমতার জন্যও।

শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এমন খবর প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের আগে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বার্তা দিল নয়াদিল্লি।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় জলসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীবকুমার বালিয়ান লোকসভায় একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “তিস্তা চুক্তি রূপায়ণের বিষয়ে ভারত সরকার উদ্যোগী। সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে।’’

১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লি যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ধারাবাহিক সংঘাতের প্রক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আনন্দবাজার বলছে, ঢাকা সফরে যাওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে (মনোহর পারিকর) শেখ হাসিনা আজও জানিয়েছেন, সন্ত্রাস প্রশ্নে দিল্লির পাশেই থাকবে ঢাকা। উরি-সন্ত্রাসের বিরোধিতা করে ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলন বয়কট করেছে ঢাকা। ভবিষ্যতেও কৌশলগত প্রশ্নে হাসিনাকে পাশে পাওয়া প্রয়োজন মোদি সরকারের। তাই তিস্তা চুক্তি রূপায়ণ করতে ভারত যে কোমর বেঁধেছে, সেই বার্তা দিতে চাইছে দিল্লি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, লোকসভায় ভারতের জলসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর এ ঘোষণার মাধ্যমে মমতা সরকারকেও বার্তা দিতে চাইছে মোদি সরকার। নোট বাতিলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য যতই দ্বৈরথ চলুক না কেন, তিস্তা প্রশ্নে কিন্তু মমতার সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এগোতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। মোদির সঙ্গে ঢাকা সফর এবং স্থলসীমান্ত চুক্তির সফল রূপায়ণের পরে বাংলাদেশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাব এখন অনেক নমনীয়। এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে কলকাতার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে পাঁচ দিনের বাংলাদেশ উৎসব শুরু হবে, যার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার এই উৎসবের অন্যতম সহযোগী। ঢাকাও মমতার এ মনোভাবকে আশাপ্রদ বলেই মনে করছে।

এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের এক বর্ষীয়ান মন্ত্রীর কথায়, ‘‘তিস্তা চুক্তি নিয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা চলছে ঢাকার। কিন্তু রাজ্য সরকারের মনোভাবও এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে যেভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন, তা খুবই আশাপ্রদ।’’

কয়েক মাস আগেই সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, ‘‘তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঐকমত্যে পৌঁছনো জরুরি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।’’

সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার বলছে, তিস্তা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। মমতা চান উত্তরবঙ্গের জন্য পর্যাপ্ত জলের নিশ্চয়তা দিয়ে তবেই বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিক কেন্দ্র। বাংলাদেশের ওই মন্ত্রীর কথায়— মমতাকেও রাজ্যের স্বার্থ দেখতে হবে। কিন্তু তিস্তার জলের ভাগ কী হবে, ঢাকা চায় আলোচনার মাধ্যমেই তার মীমাংসা হোক। বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলিও জানান, তিস্তা নিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থা রেখেই এগোতে চান। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech