প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে এফবিআই‘র কান্ডঃ গ্রেফতার ২

  

পিএনএসঃ প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের গোপনীয় নথি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড় শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু‘জনকে গেফতার করেছে এফবিআই।তবে এই দুই ব্যক্তি কাদের পক্ষে কাজ করছিলেন তা এখনো জানা যায়নি।
সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর প্রাক্তন এক এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিলেন বাংলাদেশি তরুণ রাজীব আহমেদ সিজার (৩৫)। জয় সম্পর্কিত মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সংরক্ষিত গোপন নথি সংগ্রহে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন রাজীব।
রাজীব রোববার নিউ ইয়র্কের হোয়াইটপ্লেনে ফেডারেল কোর্টের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক ভিনসেন্ট এল ব্রিককেট্টির সামনে এ ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস জানিয়েছে।
আদালতে রাজীবের সহযোগী জোহানেস থালেও (৫১) একই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে তথ্য বের করতে রাজীবের ওই ঘুষ কেলেঙ্কারি বিষয়টি তখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়। এবার আদালতে নিজেই বিষয়টি স্বীকার করলেন তিনি।
কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের প্রাক্তন কর্মকর্তা রবার্ট লাস্টিকের সঙ্গে এ ঘুষ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন রাজীব ও থালে। তিনজনের বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জ গঠন করা হয়েছে। এ মামলার শুনানি পরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশ থেকে বিশাল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরণ করেছেন কি না, তা জানতে প্রাক্তন এফবিআই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেন রাজীব।
অন্য এক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বিষয়ে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত তথ্য ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য এফবিআইয়ের এক সাবেক এজেন্টকে ঘুষ দেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছেন এক বাংলাদেশি তরুণসহ দুই ব্যক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস জানিয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রিজভী আহমেদ ওরফে সিজার (৩৫) ও জোহানেস থালের (৫১) গত ১৭ অক্টোবর নিউ ইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন ফেডারেল আদালতে বিচারক ভিনসেন্ট এল ব্রিকেটির সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তারা দুজনেই স্বীকার করেন, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০১২ সালের মার্চের মধ্যে তারা এফবিআইয়ের সাবেক স্পেশাল এজেন্ট রবার্ট লাস্টিককে ঘুষ সাধেন, যিনি ওই সময় এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডে দায়িত্বরত ছিলেন। এদের মধ্যে থালের এফবিআই এজেন্ট লাস্টিকের ছোটবেলার বন্ধু। আর একটি দোকানে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে রিজভীর সঙ্গে থালেরের পরিচয়। ঘুষের এই মামলায় রিজভী ও থালেরকে গত আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়। আর লাস্টিককে অন্য এক অভিযোগে আগেই গ্রেপ্তার করা হয় বলে যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

জবানবন্দিতে রিজভী বলেন, তার বিপরীত মতাদর্শের একজন বাংলাদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন নথি এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য তিনি ওই ঘুষ সাধেন। রিজভী ও থালের জবানবন্দিতে স্বীকার করেন, ওই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবস্থান জেনে তার এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ‘ক্ষতি করতেই’ ওই গোপন তথ্য চাইছিলেন তিনি। এ বিষয়ে রবার্ট লাস্টিকের সঙ্গে মেইল ও টেক্সট ম্যাসেজ চালাচালি হয়। এফবিআই এজেন্ট লাস্টিক প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার ডলার এবং পরে মাসিক ভিত্তিতে ৩০ হাজার ডলারের বিনিময়ে ‘সব তথ্য’ দিতে রাজি হন।

যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সংবাদমাধ্যম এক্সামিনার মামলার এজাহারের যে অনুলিপি প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৩ অক্টোবর ও ৩ নভেম্বর লাস্টিকের নির্দেশে একজন এজেন্ট তিন দফা এফবিআইয়ের ডেটাবেইজে প্রবেশ করেন এবং ওই বাংলাদেশি রাজনীতিকের বিষয়ে সন্দেহজনক কার্যক্রমের গোপন নথি সংগ্রহ করেন। এরপর ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর ডানবুরির এক শপিং মলের ফুড কোর্টে থালের ও রিজভীর বৈঠক হয়। সেখানে থালের এফবিআইয়ের ওই গোপন নথিক রিজভীর হাতে দেন এবং বিনিময়ে রিজভী দেন এক হাজার ডলার।
এরপর রিজভীকে চাপ দিয়ে কীভাবে বাড়তি টাকা আদায় করা যায়, সে বিষয়ে থালের ও লাস্টিকের মধ্যে এসএমএস আদান প্রদান হয়। একটি রেস্তোরাঁয় বৈঠক করার বিষয়েও তারা সম্মত হন। ওই এসএমএস থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের আরেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাদ দেয়ার জন্য ঘুষ দিতেও রাজি হন রিজভী ও তার ‘সঙ্গীরা’।

২০১২ সালে জানুয়ারির শেষ দিকে লাস্টিক জানতে পারেন, রিজভী আরেকটি সূত্র থেকে গোপন তথ্য বের করার চেষ্টায় আছেন। এরপর তিনি থালের কে একটি টেক্সট ম্যাসেজ পাঠন, যাতে বলা হয়, ওই এফবিআই এজেন্ট বাংলাদেশি সেই রাজনীতিকের নম্বর পেয়েছেন এবং দ্রুত ১০ হাজার ডলার না পেলে তিনি রিজভীর গোপন তথ্য চাওয়ার বিষয়টি ফাঁস করে দেবেন। এ ঘটনায় রিজভীর পেছনে আর কে বা কারা ছিল- সে বিষয়ে কিছু এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি।

আগামী বছর ২৩ জানুয়ারি রিজভী ও থালেরের বিরুদ্ধে এ মামলার শুনানি শুরু হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস জানিয়েছে। আর লাস্টিকের বিচার শুরু হবে আগামী ১৭ নভেম্বর।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech