জ্বালানি তেলের আমাদানির পরিমাণ ৪৫ লাখ টন পৌঁছালো

  


পিএনএস, এবিসিদ্দিক: বাড়ছে জ্বালানি তেলের চাহিদা আর আমদানির পরিমাণ। ২০০৩-০৪ সালে পরিশোধিত/অপরিশোধিত সহ বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছিল(পরিশোধিত/অপরিশোধিত মিলিয়ে) ৩৫ লাখ টন আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি করা হয় প্রায় ৫৪ লাখ টন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)জ্বালানি তেল আমদানি করে দীর্ঘ দিন লোকসান গুনার পর এখন চলছে লাভজনক অবস্থায়। ১৯৭৭ সাল থেকে বিপিসির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে ১৯৭৬-৭৭ থেকে ১৯৮১-৮২ পর্যন্ত কয়েক বছর লোকসানের মুখোমুখি হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮২-৮৩ থেকে ১৯৯৮-৯৯ পর্যন্ত বিপিসি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর মধ্যে শুধু ১৯৯৬-৯৭ সালে বিপিসি লোকসান দিয়েছে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সে অনুযায়ী স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বিপিসিকে ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত বিপিসির পুঞ্জিভূত লোকসানের পরিমাণ ৫১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, বিপিসির লোকসান কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা অংশ হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময়ে মোট ১৫০০ কোটি টাকা নগদ ভর্তুকি হিসেবে এবং ১৫ হাজার ৯৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা বন্ড ইস্যুও মাধ্যমে বিপিসির দায় গ্রহণ করে। কিন্তু ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণের দায় এখনো বিপিসির ওপর রয়ে গেছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছর থকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকায় বিপিসি মুনাফা করছে। উক্ত মুনাফা থেকে বিপিসি পর্যায়ক্রমে ৩০৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করেছে। এ ছাড়া বিপিসি কর্তৃক পেট্রোবাংলার বকেয়া পাওনা ১৭০০ কোটি টাকা, ভ্যাট কর্তৃপক্ষের বকেয়া পাওনা, ৬০৩ কোটি টাকা, রিফাইনারি ২য় ইউনিটের জমি ক্রয়ের জন্য ২৩৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে লভ্যাংশ হিসেবে সরকারকে পরিশোধ করা হয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইআরএল ইউনিট-২, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প, ভারতের নুমালিগত রিফাইনারি থেকে পার্বতীপুর পাইপলাইন স্থাপন, পায়রা বন্দরে নতুন অয়েল রিফাইনারি স্থাপনের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে না। তাই দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনার্জি অনুযায়ী ৬০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুদ ধরে রাখার জন্য বিপিসিকে ৫০০০ কোটি টাকার কার্যকরি মুলধন গঠন করতে হবে। এসব বিবেচনা করে বিপিসিকে ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার ঋণকে ভর্তুকি হিসেবে রূপান্তরের অনুরোধ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech