খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব তলব

  

পিএনএস : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১১৩ (এফ) ধারা অনুসারে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিজিং ও বীমা কোম্পানি, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং সব ডাকঘরে ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে চিঠি পাওয়া পর্যন্ত পরিচালিত সব ধরনের লেনদেনের হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করে কর অঞ্চল ৮-এর কর সার্কেল ১৬৩ উপকর কমিশনারের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। গত ৮ আগস্ট কর অঞ্চল ৮-এর কর কমিশনার মোহা. আবু তাহের চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ৭ দিনের মধ্যে তথ্য পাঠাতে বলা হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দুরভিসন্ধিমূলক। তার হিসাবে কোনো অনিয়ম পাবে না। সবই ঘোষণা দেওয়া আছে। তবে আমাদের আশঙ্কা, সরকার হয়রানি করার জন্য এটি করতে পারে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করে এনবিআরের গোয়েন্দা শাখা। পরে একই বছরের শেষের দিকে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। অবশ্য খালেদা জিয়া ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার আবেদন এনবিআর পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কর ফাইলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এনিবআর। পরে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর পর আর আলোর মুখ দেখেনি সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর কর ফাইল।

২০১১ সালে করা ওই আবেদনে বলা হয়, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমুদয় ব্যাংক হিসাব জব্দ আছে, যা ইতোপূর্বে একাধিক আবেদন করা সত্ত্বেও অবমুক্ত করা হয়নি। খালেদা জিয়ার নামে যেহেতু এনবিআরের কোনো মামলা নেই, তাই ব্যাংক হিসাবগুলো অবমুক্ত করতে আইনগত বাধা নেই।’

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আহমেদ আজম খান বলেন, ২০০৭ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ রেখে মাসিক ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ অর্থে একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানের পক্ষে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাওয়াই কষ্টকর। আহমেদ আযম খান দাবি করেন, খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে আইনি কোনো জটিলতা নেই। এ বিষয়ে বারবার এনবিআরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই।

বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো কর মামলা নেই, তবুও হিসাবগুলো খুলছে না এনবিআর।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল



 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech