মেয়ে হাইকোর্টের চাকরিজীবী, বাবা শিল্পকলার গেটে!

  

পিএনএস (জে এ মোহন) : সন্তানের নিষ্ঠুরতায় পৃথিবীর সব নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এক বৃদ্ধা মাকে গোয়াল ঘরের ঘটনায়। শতবর্ষী মায়ের স্থান গোয়াল ঘরে ; কামড়িয়ে পায়ের মাংস খেয়ে ফেলেছে শিয়াল!

ঢাকার উত্তরায় তিন বিত্তশালী ছেলের বাবার ঠিকানা মসজিদে আর লাশটি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে দিয়ে দেওয়া হয়। উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে যা ছেলেদের নামে দিয়েছেন। তার বড় ছেলে ডাক্তার। নিজস্ব ফ্ল্যাটে স্ত্রী, শালী এবং শ্বাশুড়ী নিয়ে থাকেন, অথচ বৃদ্ধ বাবার জায়গা নেই।

মেয়ে হাইকোর্টের চাকরিজীবী, বাবা শিল্পকলার গেটে! দুই ছেলে-তিন মেয়ে, তার মধ্যে এক মেয়ে হাইকোর্টের চাকরিজীবি তার পরেও বাবা পড়ে রয়েছেন শিল্পকলার গেটে। প্রতিনিহত এমন ঘটানা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। এমন নিষ্ঠুরতার শিকার নেত্রকোনা আটপাড়া থানার স্বরমইশ্বা ইউনিয়নের উসমান খাঁ, বয়স ৮০ উর্ধে।

শিল্পকলার আশ-পাশ দিয়ে যারা যাতায়াত করেন তাঁরা হয়তো অনেকেই এই বৃদ্ধ লোকটিকে দেখতে পারেন।৮০ উর্ধে বয়স। দেখলে যে কারও মায়া হয়। জানার ইচ্ছে করে কেন এই বয়সে পড়ে আছে রাস্তায়। বৃদ্ধের কি কেউ নেই?

প্রতিদিন শিল্পকলার পাশেই বৃদ্ধ দেখা যায়। ঝড়-বৃষ্টিতেও শিল্পকলার গেইট তার ঠিকানা মনে হলেও খোঁজ নিয়ে যা জানলাম তাতে রিতিমত অবাক না হয়ে পারলাম না।

বৃদ্ধের নাম উসমান খাঁ, বয়স ৮০ উর্ধে। নেত্রকোনা আটপাড়া থানার স্বরমইশ্বা ইউনিয়নের বিছড়া কান্দা গ্রামে বাড়ি। স্ত্রী-সন্তান ও রয়েছে।বৃদ্ধকে প্রশ্ন করলাম চাচা আপনার ওয়াইফ (স্ত্রী) আছে? উত্তর: হে আছে, ওয়াইফ শব্দ ও বুঝেন। শুরুতেই বুঝা গেল বৃদ্ধর পড়া-শুনা জানা।

দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলেরা কৃষিকাজ করেন নিজস্ব জায়গায়। মাঝে মধ্যে বাহিরে কাজ করেন। মেয়েরা সবাই বিত্তশালী। ছেলে-মেয়েরা সবাই বিয়ে করে নাতি-নাতনী ও রয়েছে।

বড় ছেলে নূর ইসলাম। ছোট ছেলে দুদু মিয়া। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এক মেয়ে হাইকোর্টে চাকরি করেন। মেয়েদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন ‌‌'এত জানিয়া কিতা করেন‍' জানা লাগতো না। প্রতিদিন ভিক্ষা করে ২০০-২৫০টাকার পান। খাবার পাশের একটি হোটেল থেকে খেয়ে থাকেন। তাতে টাকা লাগে না। ভিক্ষা করেন জিজ্ঞাসা করলে বলেন মানুষ এমনিতে দিয়ে যায়। ছেলে-মেয়েরা দেখা-শুনা করেনা?

'আমি তাদেরটা খাই না' কেন? বুড়া-বুড়ি আতরা (আলাদা, ছেলেদের মাঝে থাকেন না) খাই।যেগাযোগ হয়? 'ফোনে কথা বলি' টাকা দেন? কাল বাড়িতে যাবো টাকা নিয়ে।খোঁজ নিয়ে জানা যায় শিল্প কলার আশ-পাশ অনেক ফুট দোকানদারকে ২০,০০০-৪০,০০০ টাকা দিয়ে রেখেছেন। অনেক সম্পত্তিও রয়েছে বৃদ্ধের।

জিজ্ঞাসা করলাম দোকানদারদের টাকা দিয়েছেন? টাহা (টাকা) রেখেছি বাড়ি যাইতে (যেতে) নিয়ে যামু। অনেক দোকানি টাকা দেয় না।তাই পুলিশের সাথে কথা বলেছি টাকাটা তুলে দেওয়ার জন্য।পাশের একজন বলেন ভাই উনার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাবেন না। উনি অনেক সম্পত্তির মালিক। মেয়েদের পরিচয় বলতে নারাজ বৃদ্ধ।

চাচা আপনে জানেন ছেলে-মেয়ে যদি আপনাকে দেখা-শুনা না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। বর্তমান সরকার আইন করেছে আপনে জানেন? জানি, নিমু না, আমি তাদের টা খাই না।ছেলের বউরা দেখা-শুনা করে না?

দেখে, খুব দেখে। তাহলে ভিক্ষা করেন কেন, বাড়িতে যান না কেন? অনেক প্রশ্ন করলেও বৃদ্ধর কাছ থেকে অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়নি। পেশাদারিত্ব না ছেলে-মেয়েদের অবহেলায় আজ শিল্পকলার গেটে প্রশ্নটা থেকে গেল।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech