‘অর্থমন্ত্রীর অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে’

  

পিএনএস(জে এ মোহন): অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক সমাজ, ওয়েজ বোর্ড ও গণমাধ্যম সম্পর্কে যে অরুচিকর ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বর্তমান সরকারের গণমাধ্যমবিরোধী মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি গোটা সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে হেয় করেছেন, অপমান করেছেন। এটা কোন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর মুখে তো নয়ই, সুস্থ বিবেকবান সাধারণ মানুষের মুখেও শোভন নয়।

অর্থমন্ত্রীকে তাঁর অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে। একই সঙ্গে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করতে হবে। আইসিটি আইনের নিপীডনমূলক ৫৭ ধারা বাতিল ও বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে হবে। তা না হলে সারা দেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

আজ (রোববার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রীর কুরুচিপূর্ণ ও অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্বি করেন বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ। ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহঙ্গীর আলম প্রধানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বর্তমান মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকির হোসেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, বিএফইউজে’র সহকারি মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি নুরুল আমীন রোকন, নির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জমান আসাদ, ডিইউজে’র সহসভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত, সাংবাদিক নেতা আবুল কালাম মানিক, এরফানুল হক নাহিদ, শাহজাহান সাজু, খন্দকার আলমগীর, শাখাওয়াত ইবনে ম্ঈন চৌধুরী, ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর, এইচ এম আল-আমিন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই নিবন্ধিত সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি নিয়ে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে অচিরেই বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং সে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যদি অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন তাহলে তার পদত্যাগ দাবি করতে আমরা বাধ্য হবো। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে সব মিডিয়া বন্ধ করে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। সরকার এখন সেই একই পথে হাটছে। দেশে কেউ বর্তমানে নিরাপদে নেই। সরকারের লোকজন প্রতিনিয়ত আদালত অবমাননা করে যাচ্ছে।

বিচারপতিদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। যাতে তারা সুষ্ঠুভাবে রায় না দিতে পারে। উচ্চ আদালতের রায়ের পর সরকার বেসামাল হয়ে গেছে। এ রায়ে বর্তমান সরকার যে অবৈধ তা আরেকবার প্রমাণ করেছে।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজ দেশে গণতন্ত্র নেই। ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় বসে আমার দেশ, দিগন্ত টিভিসহ অসংখ মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একটি সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড ও গণমাধ্যম সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি তার এমন অযৌক্তিক বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, অবিলম্বে রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করতে হবে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে তা তুলে নিতে হবে। তানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

এম আবদুল্লাহ বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন এতোগুলো চ্যানেল দরকার নেই। ১৫ থেকে ২০টির বেশি পত্রিকা নেই। তার এমন বক্তব্যে পুরো সাংবাদিক সমাজ বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এটা তাঁর অজ্ঞতার পরিচায়ক। তিনি দেশের গণমাধ্যমের খবর রাখেন না। অথচ দেশের গরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তাঁকে যারা মন্ত্রী বানিয়েছে তাদের বিবেচনাবোধ নিয়ে সাংবাদিক সমাজ প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছে। এম আবদুল্লাহ বলেন, আমি অর্থমন্ত্রীর এমন অশোভন ও ধৃষ্টতাপুর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন নিয়ে সরকারি টালবাহানা বন্ধ করে এই মাসেই রেজিস্টার্ড সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

এম এ আজিজ বলেন, সংগ্রাম ছাড়া কোনো দাবি আদায় হয় না। এজন্য সংগ্রাম করেই সাংবাদিকদের সকল অধিকার আদায় করতে হবে।

অর্থমন্ত্রীর অশোভন বক্তব্যের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তিনি বলেছেন ২০টির বেশি পত্রিকা নেই। চ্যানেল গুলোর দরকার নেই। এসকল বক্তব্য তিনি সুস্থ অবস্থায় দেননি। তিনি বয়সজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েই এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এই লোকের কোনো লজ্জা নেই। পুরো কেবিনেট এ ধরণের লোক দিয়ে ভরা।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, ক্ষমতাসীনরা যদি গণতন্ত্রের পক্ষে থাকতো তাহলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে এমন অশোভন বক্তব্য দিতে পারতো না। আমি অবিলম্বে অর্থমন্ত্রীর দেয়া অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

মুহাম্মদ বাকির হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর সুস্থতা নিয়ে মানুষ সন্দিহান। তিনি বিভিন্ন সময়ে যেসব কথা বলছেন তা সুস্থতার লক্ষণ নয়। উচ্চ আদালতের রায়ের পর সরকারে টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পিএনএস/আলআমীন/জে এ মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech