‘কাঙ্গাল’দের রেখে নেতাকর্মীদের কাঙ্গালিভোজ চলছে!

  

পিএনএস, সাভার: বিকেল তখন প্রায় চারটা, একটি কলেজ মাঠে কয়েকজন খিচুরি খাচ্ছেন। তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের খাওয়া দেখছেন কয়েকজন বৃদ্ধা ও ছোট শিশু। তাদের অনেকের হাতেই থালা।তবে তাতে খিচুরি নেই

১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে মত শনিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

অনুষ্ঠান শেষে আশুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চলে কাঙ্গালি ভোজ। কিন্তু যাদের উদ্দেশ্যে এই কাঙ্গালি ভোজ, আয়োজনে সেই হত-দরিদ্ররাই ছিল অবহেলিত। হাতে থালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে যায় তাদের। অথচ পাশেই পেট পুরে খাচ্ছিলো নেতাকর্মীরা।

১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশেই দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। এতিম ও গরিবদের মাঝে বিতরণ করা হয় খাবার। তবে পাড়া-মহল্লা, ইউনিয়ন-থানা যেখানেই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শীর্ষক আয়োজন থাকুক না কেন, অনুষ্ঠান শেষে গরিব ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ পর্ব অবশ্যই থাকে। এক কথায় যাকে বলে কাঙ্গালি ভোজ। কিন্তু ভোজে কি কাঙ্গালরা গুরুত্ব পায়? আশুলিয়ায় অবশ্য তেমনটা মনে হলো না।

স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে দুপুরের পর থেকেই সেখানে সমবেত হন হাজারো নেতাকর্মী। এছাড়া উপস্থিত হন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ । আর উপস্থিত হন খাবারের আশায় থাকা স্থানীয় গরিব মানুষজনও।

আলোচনা, দোয়া ও মোনাজাতের পরপরই কাঙ্গালি ভোজের খিচুরি বিতরণ শুরু করে আয়োজকরা। মুহূর্তের মধ্যেই নেতাকর্মীদের হাতে হাতে প্লেট ও খাবার পৌঁছে যায়।কিন্তু যাদের জন্য আয়োজিত এই কাঙ্গালি ভোজ, সেই হত-দরিদ্রদের কাছে পৌঁছায় না কোন প্লেট!

কয়েকজন বয়স্ক বৃদ্ধা, মহিলা ও শিশু খাবারের জন্য নেতাকর্মীদের আশপাশে ঘুরলেও মন গলেনি আয়োজক নেতাকর্মীদের।

অনুষ্ঠানে আসা ফলিনা বেগম নামের এক বৃদ্ধা বলেন, তার নাতিদের নিয়ে এখানে এসেছেন। এখানে প্লেট পরিষ্কারের কাজ নিয়েছেন। সাথে এনেছেন তিন নাতি-নাতনিকে। খিচুরি পাওয়ার আশায় বসে আছেন মঞ্চের পাশে। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। সবাই খাচ্ছে তবু তাদের কপালে জোটেনি কাঙ্গালি ভোজের খিচুরি। বাধ্য হয়ে ছোট নাতি নাতনিদের নিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের খাওয়া দেখতে হচ্ছে।

সালেহা খাতুন নামের আরেকজন বলেন, তিনি পাশের একটি গ্রামে থেকে মাটি কাটার কাজ করেন। সকালে জানতে পারেন চেয়ারম্যান সাহেব দুপুরে গরিবদের খিচুরি খাওয়াবেন। তাই কাজ করেই সরাসরি এখানে চলে এসেছেন। কিন্তু সবাই খেলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে না। সবার খাওয়া শেষ হলেই তাদেরকে নাকি খাবার দেয়া হবে । শেষে প্রায় তিন ঘণ্টা বসে থেকেও খাবার না পেয়েই ফিরে গেছেন তিনি।

এ বিষয়ে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন মাতব্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাবার বিতরণের দায়িত্ব থাকা এক ব্যক্তি জানান, আগে থেকে বলা ছিল প্যান্ডেলের ভিতরের লোকজনকে আগে খেতে দিয়ে বেশি হলে বাইরে দিতে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গরীব দুঃখী সকলেই খাবার পায়। এ অনুষ্ঠানে তাদের খাবার না দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে জানা নেই। তবে আজকের অনুষ্ঠানে পর্যাপ্ত খাবার রান্না করা হয়েছিল । যা দিয়ে পুরো একটি গ্রাম খাওয়ানো যেত। কিন্তু তাদের পরে দেওয়ার কারণ প্লেটের স্বল্পতা হতে পারে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহম্মেদ বলেন, বঙ্গবুন্ধ গরিবদের সবসময় কাছে টেনে নিতেন। তার শাহাদাৎ বার্ষিকীতে ধনী গরিব বলে কথা নেই। সেখানে সবাই সমান। আসলে তিনি ওই অনুষ্ঠানে শুধু মাত্র অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য দিয়ে চলে এসেছেন। এ ব্যাপারে কোন কিছু জানে না তিনি।



পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech