‘রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে হবে’

  

পিএনএস : ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড.মওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য হতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগত নিধনযজ্ঞের কারণে মিয়ানমার সরকারের নিন্দা করায় আমরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্যের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের এতবড় জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোই যথেষ্ট হবে না; বরং তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সকল প্রকার কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাদের পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটিতে ফিরিয়ে নেয়া এবং নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করতে হবে।

তিনি আজ শুক্রবার বাদ জুমা ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে মায়ানমারে মুসলিম নিধন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী আমির মোস্তফা বশীরুল হাসানের সভাপতিত্বেঅনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড.মওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী,বক্তব্য রাখেন. আন্দোলনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারী অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান,সাংগঠনিক সম্পাদক ডা সাখাওয়াত হুসাইন,ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, মওলানা মাহফুজুর রহমান, অফিস সম্পাদক মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক, ঢাকা মহানগরী প্রচার সম্পাদক এড. মওলানা ওমর ফারুক, জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুর রহমান প্রমূখ।

ড.শাহেদী আরও বলেন, রোহিঙ্গারা মুসলমান এই কারণে তাদের উপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে বিশ্বের ২০০ কোটি মুসলমানের উপর সরাসরি আক্রমন। দ্বিতীয়ত তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে বহিরাগত বাঙ্গালী বলে হত্যা করা হচ্ছে, ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, শিশুদেরকে কচুকাটা করছে, নির্বিচারে অঙ্গ হানি করছে যা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের জাতিসত্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর এবং গোটা বিশ্ব সভ্যতার বিরুদ্ধে হুমকি। এমতাবস্থায় বিশ্ব সমাজ যদি মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় এবং আনান কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান ও তাদের দেশে স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে বর্তমান বিশ্বে ন্যায়নীতি বা সভ্যতা বলতে কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না।

অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিম ভাইদের সাহায্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রাণঢালা সাহায্য ও ত্রাণ সামগ্রীর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বিশ্ব সমাজের উচিত ইসলামী ভ্রাতৃত্বের জোয়ার দেখার জন্য বাংলাদেশের কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফে সফর করা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech