সু চির রক্ত-পিপাসায় আরাকান মানুষশূন্য!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : স্বজন হারিয়ে জীবন বাঁচাতে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো বাংলাদেশে আসছে মিয়ানমারের নাগরিক হতভাগ্য রোহিঙ্গা মুসলমানরা। সে দেশের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের নিধন প্রক্রিয়া এবং পোড়ামাটির নীতির কারণে মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান রাজ্য বিরাণ ভূমিতে পরিণত।

শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বে পরিচালিত সে দেশের সেনাবাহিনী এবং বহুল প্রচারিত জীবন হত্যা মহাপাপ বলা বৌদ্ধদের দ্বারা ওই দেশের মসুলমানদের উপর গণহত্যা চলছে। হিটলারি কায়দায় নির্যাতনের হেন উপায় নেই, যা তারা করছে না। মা-বোনদের প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে শ্লীলতাহানি ঘটানো হচ্ছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা ঘাতকের ভূমিকায়। মুসলমানদের হত্যার পাশাপাশি গ্রামগুলো জ্বালিয়া দিচ্ছে। একইভাবে মুসজিদসহ মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নিরপরাধ নারী-শিশু-বৃদ্ধদেরও হত্যা করা হচ্ছে। নির্বিচারে হত্যার পর ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে নদীতে।

কফি আনান কমিশন রিপোর্ট দেয়ার পর অত্যাচারের মাত্র নতুন গতি পায়। ২৪ আগস্ট থেকে চলমান বিভীষিকাময় পরিস্থিতির চলছেই। দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতির ততই অবনতি ঘটছে। বাড়ছে এবং বদলাচ্ছে অত্যাচারের ধরনও। মানবীয় আচরণ বলতে যা বোঝায়, তার লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই এই খুনিদের মধ্যে।

১২ জন নোবেল লরিয়েট, নিরাপত্তা পরিষদের আহ্বান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সচিত্র প্রতিবেদনের পরও জল্লাদের ভূমিকায় সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা। মুসলিম বসতি জ্বালাও-পোড়াওসহ ধ্বংসাত্মক ও জাতিগত নিধন অব্যাহত। আর এ-বিষয়ে সু চির প্রতিক্রিয়া মানবতাবাদীদের যারপরনাই বিস্মিত ও ব্যথিত করছে।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়, যে দেশে রোহিঙ্গাদের স্রোত বইছে, বারকয়েক সে দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার। সীমান্তে পোঁতা হচ্ছে স্থলমাইন। সীমান্তে গুলিবর্ষণের কথাও মিডিয়ায় আসছে। মনে পড়ে সে দেশের সীমান্তরক্ষীদের হাতে ইতিপূর্বে নিহত হওয়া এক বিজিপি সদস্যের কথা।

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সীমান্তে আজ যা করা হচ্ছে, এটিকে আগ্রাসন বললে কমই বলা হবে। কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে এ দেশে ঠেলেও দেয়াকেও একধরনের আগ্রাসন মনে করছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক অভিজ্ঞজনরা। কারো কারো মতে, পররাষ্ট্র নীতির দুর্বলতার কারণে এসব হজম করতে হচ্ছে আমাদের।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা উদ্বাস্তু হিসেবে আমাদের দেশে আসে। সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি। জীবন বাঁচানোর তাগিদে রাত-দিন বিরামহীনভাবে তারা আসছেই। কক্সবাজারের আনাচে-কানাচে গিজগিজ করছে অসহায়, অস্ত্রুসিক্ত, দিশেহারা, ক্ষুধায় কাতর মানুষে। চোখে-মুখে এখনো তাদের ভয় কাজ করছে।

কক্সবাজারের যত্রতত্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি চোখে পড়ছে। মলমূত্র ত্যাগের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাদের জন্য আহার, বাসস্থান, চৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি আর ওষুধ অতীব প্রয়োজন। এগুলোর অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এগুলোর পর্যাপ্ত জোগান দেয়া না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা রকম বাণিজ্য হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আনা সোনাদানা লুট হচ্ছে। তাদের আনতে আদায় করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। এসব কারা করছে, তা সবার জানা। এত দিনেও একটি শৃঙ্খলিত অবস্থার মধ্যে রোহিঙ্গাদের আনতে না পারাটা দুঃখজনক। অচিরেই রোহিঙ্গাদের একটি ফরম্যাটে এনে উক্ত প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা জরুরি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech