সু চি পার পেয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী জাতিগত নিধন বাড়বে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : আরাকানে জাতিগত নিধন সম্পন্ন এবং মুসলমান বসতিগুলো বিরাণভূমিতে পরিণত করার পর সূ চি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। তার ভাষণে গণহত্যার জন্য দুঃখবোধ প্রকাশ না পেয়ে স্থান পেয়েছে ধাম্ভিকতা ও শতভাগ স্বৈরাচারী মানসিকতা।

মানুষ মানুষের জন্য- শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের এককালের গণতন্ত্রের নেত্রী অং সান সূ চির অবস্থান সেখানে নেই। যে জন্য তিনি নোভেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, আজকে তার অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তার এই পরিবর্তনে বিশ্বের বিবেকবান মানুষ বিস্মিত।

সূ চির জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এটাই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মানবীয় গুণাবলি বলতে যা বোঝায়; সু চির মধ্যে এর লেশমাত্র উপস্থিত নেই। থাকলে তার বক্তব্যে একটু হলেও সহানুভূতি প্রকাশ পেত। হিংস্র হায়েনার মতো তার রক্তচোষার ভূমিকা বিশ্ববিবেক ও মানবাধিকার কর্মীদের কেবলই হতাশ করেছে।

জন্মভূতিতে গণহত্যার শিকার হাজারো মানুষ আর প্রাণভয়ে দেশত্যাগী লাখ লাখ মানুষের জীবনের প্রতি তার ন্যূনতম শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় মিলেনি। উল্টো বিশ্ববাসীর সহানুভূতির দিকটিকে তার বক্তব্যে সরাসরি উপহাস করার মতো উদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে, যা ক্ষমাহীন ধৃষ্টতার শামিল।

সোশাল মিডিয়াসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিত্রে রাখাইনে যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা গেছে, তাতে বিশ্ববিবেক স্তম্ভিত। কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র শংকোস নেই হালআমলে পেতাত্মা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অং সান সূ চি, সে দেশের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের। মানবিক মূল্যবোধ কতটুকু লোপ পেলে এমনটা হয়?

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের দ্বারা পরিচালিত গণহত্যার নির্মম বলি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে দেশের শক্ত-সামর্থবান পুরুষরা। নারীদের সঙ্গেও বর্বর আচরণ করা হচ্ছে। শিশুদের জবাই করা হচ্ছে সারিবেঁধে! লাশগুলো হয় পুড়িয়ে দিচ্ছে, না-হয় নৌকায় ভরে নদীতে ফেলে দিচ্ছে। বসতিগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের পোড়ামাটি নীতির মূল শক্তি যে সূ চি, ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া তার ভাষণে সেটা আরো স্পষ্ট হয়েছে। কফি আনান কমিশন রিপোর্ট দেয়ার আগে-পরে সংঘটিত প্রতিটি গণহত্যার দায় সে দেশের কর্ণধার সূ চি, সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা এড়াতে পারে না।

কসভোর বসনিয়া-হারজেগোভেনিয়ায় পরিচালিত গণহত্যার পর সেখানে আন্তর্জাতিক আদালতে সে সময়ের খুনীদের বিচার হয়। আজকের মতো সেদিন সব চিত্র পাওয়া যায়নি। সোশাল মিডিয়ার বধৌলতে আজকে প্রায় সব প্রমাণ হাতের নাগালে। এর পরও যদি খুনিদের বিচার না হয়, তাহলে দেশে দেশ সংখ্যালঘুদের উপর একই কায়দায় জাতি-বিনাশী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বিশ্বব্যাপী জাতিগত নিধন রোধে জাতিসংঘসহ বিশ্ব মোড়লদের উচিত মিয়ানমারে সূ চি কর্তৃক প্রযোজিত এবং সে দেশের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের দ্বারা পরিচালিত গণহত্যার বিচার অনতিবিলম্বে শুরু করা। ইতিমধ্যে গণআদালতে প্রতীকী বিচার কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। ফলে এখন আর জাতিসংঘের বসে থাকার সুযোগ নেই।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech