‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে’

  

পিএনএস ডেস্ক: বর্মি সেনাদের নির্যাতন ও নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলে মনে করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি উইল কুইন্স।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে বৃটিশ পার্লামেন্টের এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের মাধ্যমে জাতিগত নিধন, বর্বরোচিত ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাজ্যের সংসদীয় তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর তাগিদ দেন তারা।

ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির এমপি অ্যান মেইনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্য হলেন পল শেউলি এমপি।

বাংলাদেশ সফরে প্রথম আসা উইল কুইন্স বলেন, ‘রোহিঙ্গা নিয়ে আমার কি অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটা আমি ব্যাখ্যা করতে পারব না। সেখানে (রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে) যে দুই দিন অতিবাহিত করেছি, তা কখনো ভুলব না। একটি যুবতী মেয়ের স্বামী ও সন্তানকে তার চোখের সামনে হত্যা করা হয়েছে। তার বাসা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারপর সে তার বাকি সন্তানদের নিয়ে পাঁচ দিন হেঁটে এখানে পালিয়ে এসেছে। সে ফিরে যেতে চায় না, কারণ সে সেখানে (মিয়ানমারে) নিজেকে নিরাপদ মনে করে না।’

উইল কুইন্স বলেন, ‘এটাও পরিষ্কার যে তারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে চায়। কিন্তু তারা সেটা পারে না। কারণ সীমান্তে ল্যান্ড মাইন পুঁতে রাখা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ায় তারা সেখানে নিরাপদ মনে করে না। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই চাপ প্রয়োগ করতে হবে। কারণ এটাই তাদের বাড়ি, তারা সে দেশেরই (মিয়ানমার) নাগরিক।’

মিয়ানমার সেনারা নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর যে ধরনের অত্যাচার-নিপীড়ন করছে এবং দেশ থেকে বের করে দিচ্ছে তাতে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমেন্সের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের বাংলাদেশ বিষয়ক চেয়ার অ্যান মেইন।

তিনি বলেন, ‘যারা এসেছে তাদের দেখে আমরা শঙ্কিত। এই মানুষগুলোকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা জানি না কত বৃদ্ধ ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যা হয়েছে সেটা অবশ্যই ভয়ংকর।

এক প্রশ্নের জবাবে অ্যান মেইন বলেন, ‘এটা গণহত্যা কি না সে বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞ নই। আমরা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে যে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি তাই আমাদের সংসদে তুলে ধরব। আমরা জানি না সেখানে কত লোককে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে হত্যাযজ্ঞ চলছে।’

পল শেউলি বলেন, ‘মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ বন্ধে এটা শুধু বাংলাদেশের একার দায়িত্ব নয় বরং সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও এর দায়িত্ব নিতে হবে। চীন ও রাশিয়া তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র। তাই সঙ্কট সমাধানে অবশ্যই মিয়ানমারের ওপর রাশিয়া ও চায়নার চাপ প্রয়োজন।’

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech