ইরাক ও ইরানে ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় খালেদা জিয়ার গভীর শোক

  



পিএনএস ডেস্ক: ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৩ শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, ইরাক ও ইরানের সীমান্তে প্রবল ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া এলাকায় মানুষের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি ও প্রাণহানিতে আমি গভীরভাবে শোকাভিভূত।

এ ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমি ক্ষতিগ্রস্ত ইরাক ও ইরানবাসীর সঙ্গে সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি। তাদের এ বিপদের সময়ে বাংলাদেশের মানুষও তাদের পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, আমি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন ক্ষতিগ্রস্ত ইরাক ও ইরানবাসীকে এ বিশাল শোক ও কষ্ট সইবার ক্ষমতা দান করেন। প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ এ ধ্বংসাবশেষ থেকে আবারো নতুন উদ্যমে জীবনপ্রবাহ সচল করতে সক্ষম হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী মানুষের প্রতি এ দু:সময়ে জানাচ্ছে গভীর সহানুভূতি। আমি ভূমিকম্পে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

হতাহতদের উদ্ধার ও সহযোগিতার জন্য আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

ইরান-ইরাক সীমান্তে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৯
ইরান ও ইরাকের উত্তর সীমান্তে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে দুই হাজারের বেশী মানুষ।

ইরানের স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং এর মূলকেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩.৯ কিলোমিটার গভীরে। ভূমকম্পটি মূল আঘাত হেনেছে ইরাকের আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে। ওই অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত ইরানের কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পে কেরমানশাহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই প্রদেশে ১২৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ‘সারপোলে জাহহাব’ শহরে ৬৮ জন, ‘কাসরে শিরিন’ শহরে ৩৮ জন এবং কেরমানশাহ শহরে ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছে।

ওদিকে, ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির সুলাইমানিয়া প্রদেশে অন্তত ৩০ জন নিহত ও কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছে। এ ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ইরানেই আহত হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষ।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভূমিকম্প কবলিত এলাকাগুলোতে জোরেশোরে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররেজা রাহমানি ফাজলিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আরমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, কুর্দি সরকার-শাসিত সুলাইমানিয়া শহর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে হালাবজার কাছে ভূমিকম্প প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের দূরত্ব অনেক হলেও সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাগদাদের ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। অনেকে একে প্রথমে বিস্ফোরণ বলে মনে করলেও কম্পন এক মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হওয়ায় পরে একে ভূমিকম্প বলে বুঝতে পারে।

ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটার শক হয়েছে এবং ইরানের কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ, ইলাম, খুজিস্তান, হামেদান, পশ্চিম আজারবাইজান, পূর্ব আজারবাইজান, লোরেস্তান, তেহরান, কাজভিন, যানজান ও কোম প্রদেশ থেকে তা অনুভূত হয়।

ইরানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে কেরমানশাহ প্রদেশে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, গ্রাম এলাকার কিছু ঘর-বাড়ি ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech