একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের চিন্তা ইসির ইভিএম বাদ

  


পিএনএস ডেস্ক: একাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বেশির ভাগ দলের পরামর্শ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাদ দেয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদের রোডম্যাপে ইভিএমের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তা ছাড়া ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ইসির কাছে পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব এসেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। অপর দিকে নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল বলেছে, জাতীয় নির্বাচনে কোনোভাবেই ইভিএম বা ডিভিএম পদ্ধতি বা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরনো প্রায় এক হাজার ইভিএম অকেজো করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইসি। এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও কাজ করছে। আর নতুন করে ইভিএম তৈরির কাজও চলছে। সেগুলো ব্যবহার হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কাজে সীমিত পরিসরে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা হবে প্রায় ৪০ হাজার। এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হলে প্রায় আড়াই লাখ ইভিএম প্রয়োজন হবে। ভোটের আর বাকি আছে এক বছর। এই সময়ের মধ্যে এত বিপুল ইভিএম তৈরি কঠিন হবে। তা ছাড়া এসব মেশিনের ওপর নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। সর্বোপরি ভোটারদের নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটদানের উপযোগী করে তোলা প্রায় অসম্ভব, যেখানে ভোটারেরা ব্যালটেই অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে না।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, পুরনো ইভিএম অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু ভালো আছে সেগুলো দিয়ে রংপুর কিংবা অন্য জায়গায় দেখার চেষ্টা করছি ইভিএম কার্যকর করা যায় কি না। তবে এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতেই হবে এমন চিন্তা আমাদের মধ্যে নেই। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইভিএম যুক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতে যারা আসবে তাদের পথটা আমরা রুদ্ধ করতে চাই না। তাদের পথ প্রশস্ত করতে চাই। আমাদের ইভিএম ব্যবহারের প্রাথমিক প্রস্তুতি নেই। এখন পর্যন্ত যে দশা দেখছিÑ এটা ব্যবহার সম্ভব নয়। আমাদের একটা স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হবে। সেই স্বচ্ছ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ যন্ত্র দিয়ে হবে না।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা ও ইভিএম চালু করার বিষয়টি আরপিও সংশোধনের মাধ্যমেই করতে হবে। বর্তমানে ইসির একটি কমিটি আরপিও সংশোধনের কাজ করছে।

ইসির সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সুপারিশগুলোর অন্যতম ছিল সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার না দেয়া। অন্য দিকে বিএনপির দাবি ছিল আরপিওতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকেও যুক্ত করে ভোটের সময় তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। তবে সেনাবাহিনীকে আমরা কিভাবে কাজে লাগাব, কি প্রক্রিয়া যুক্ত হবেÑ তা বলার সময় হয়নি। কি প্রক্রিয়ায় তা হবে কমিশন এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশন সভায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আমাদের সবার অনুভূতি হচ্ছে যে সেনা মোতায়েন হবে। তবে সময়ই বলে দেবে সেনা মোতায়েন কিভাবে হবে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। আমরা কখনই বলব না যে সেনা মোতায়েন হবে না। অতীতের নির্বাচনগুলোতে সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব নির্বাচনের বিশ্লেষণ করে তাদের সেনা মোতায়েনের প্রকৃতি কি ছিল সেই বিষয়ে বলছি না। আমরা শুধু চিন্তা করছি একাদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে। অতীত টানতে চাই না। তিনি আরো বলেন, এটা বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হচ্ছে না। বিএনপি তো বলেছে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে। বিএনপির সেই বক্তব্যের ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়ার জবাব দেয়া আমার কাজ নয়।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech