কমছে না যানজট তবুও উড়াল সড়ক

  


পিএনএস ডেস্ক: একের পর এক নির্মাণ করা হচ্ছে উড়াল সড়ক। কিন্তু কমছে না যানজট। ক্রমে অচল নগরীতে পরিণত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী। যানজট নিরসনের জন্য লাখো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উড়াল সড়কগুলোই এখন যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইওভারের ওপরে ও সংযোগস্থলে লেগে থাকছে যানজট। সর্বশেষ চালু হওয়া মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়ক নিয়ে নগরবাসীর অভিজ্ঞতা চরম হতাশাব্যঞ্জক। আর সে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে এসব বিগ বাজেট প্রকেল্পর যৌক্তিকতা নিয়ে।

এরপরও থেমে নেই নতুন প্রকল্প গ্রহণ। নির্মাণের সক্ষমতা, আর্থিক সঙ্গতি ও টার্গেট পূরণের সম্ভাব্যতার সঠিক যাচাই ছাড়াই একের পর এক গ্রহণ করা হচ্ছে বিশাল বাজেটের উড়াল সড়ক প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এ ধরনের আত্মঘাতী প্রকল্পের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাতিল নগরীতে পরিণত হতে পারে। সিউল, কানাডা ও বোস্টনের মতো আধুনিক শহরেও এক সময় এ ধরনের উড়াল সড়কগুলো ভেঙে ফেলতে হয়েছে।

যানজট নিরসনের জন্য গত সাত বছরে রাজধানীতে নির্মিত হয়েছে সাতটি উড়াল সড়ক ও ফাইওভার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গুলিস্তান যাত্রাবাড়ী উড়াল সড়কসহ কুড়িল, মিরপুর-বিমানবন্দর উড়াল সড়কের মতো বড় আকারের তিনটি উড়াল সড়কই চালু করা হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। কিন্তু কমেনি রাজধানীর সার্বিক যানজট। গত ১৯ জুলাই ঢাকায় উপস্থাপিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১০ বছর আগে ঢাকায় গাড়ির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। বর্তমানে তা নেমে এসেছে সাত কিলোমিটারে। অবশ্য বর্তমানে ঢাকায় প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বহু গুণ।

সর্বশেষ মৌচাক-মগবাজার উড়ালসড়কসহ রাজধানী ঢাকায় এখন পর্যন্ত আটটি উড়াল সড়ক ও ফাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে নির্মিত হয়েছে তিনটি উড়াল সড়ক ও ফাইওভার। এ ছাড়া টঙ্গী, মাওনা, ভুলতায় তিনটি ফাইওভার নির্মিত হয়েছে। এসব উড়াল সড়ক, ফাইওভারের পেছনে পাঁচ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। বর্তমানে ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দু’টি উড়াল সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। গত ২৪ অক্টোবর অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা- আশুলিয়া উড়াল সড়ক নির্মাণের। এ ছাড়া পরিকল্পনা রয়েছে আরো প্রায় লাখো কোটি টাকার উড়াল সড়ক ও ফাইওভার নির্মাণের। এর মধ্যে রয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাউড়াল সড়ক এবং ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমে সংযোগকারী ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি মহাউড়াল সড়ক নির্মাণ।
উড়াল সড়ক যানজট নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে না পারার পরও কেন এত উড়াল সড়কের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা, বিতর্ক চলছে বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক : বর্তমানে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ। ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল এ প্রকল্প প্রথম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকে কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-সাত রাস্তা-মগবাজার রেল করিডোর-খিলগাঁও-কমলাপুর-গোলাপবাগ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালি পর্যন্ত এ উড়াল সড়কের দৈর্ঘ্য হবে ২৬ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এ উড়াল সড়ক নির্মিত হবে রেললাইন বরাবর। এ উড়াল সড়ক পরবর্তীতে আরো কয়েকটি দিকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তরা-চেরাগ আলী নির্মাণাধীন সাড়ে চার কিলোমিটার আরেকটি উড়াল সড়ক নির্মাণের খরচ ধরা হয়েছে ৯৩৫ কোটি টাকা। গত ১৯ অক্টোবর এ প্রকল্পের চুক্তি সই করা হয় চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে।

২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় ১ দশমিক ২৩ কিলোমিটার ফাইওভার নির্মাণের কাজ গত অক্টোবরে শেষ করার কথা ছিল।

অনুমোদিত উড়াল সড়ক : ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মূল দৈর্ঘ্য হবে ২৪ কিলোমিটার। এর সাথে যোগ হবে আরো ১০ কিলোমিটার র্যাম্প। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া হয়ে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেন গত ২৪ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়।
তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রহণ করা হয়েছে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ উড়াল সড়ক গত ১১ জুলাই একনেক সভায় অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত মহাউড়াল সড়ক : গত বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২২৫ কিলোমিটার একটি মহাউড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা। ওই দিন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ঢাকা চট্টগ্রাম চার লেন সড়কের ওপর দিয়ে এটি নির্মাণের কথা জানান তিনি।

এরপর গত বছর ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে এ প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক শিশির কান্তি রাউত বলেন, পুরো সড়কটি উড়াল হলে খরচ হবে ৬৭ হাজার ২৫২ কোটি টাকা এবং আংশিক উড়াল ও আংশিক মাটিতে হলে খরচ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা খরচ হবে। এটি বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে চার বছর।

২০১৭-১৮ বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, শান্তিনগর থেকে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা নগরীর পূর্ব-পশ্চিমব্যাপী ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি মহাউড়াল সড়ক প্রকল্পের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে এর সম্ভাব্যতা যাচাই হয়ে গেছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন গত অক্টোবর মাসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সেতু বিভাগ।

জয়দেবপুর-এলেঙ্গা চার লেন উন্নীতকরণ প্রকল্পে পাঁচটি ফাইওভার হবে। ২০১৫ সালের ১০ এপ্রিল মাওনা ফাইওভার পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ ছাড়া ২০১৬ সালের ৬ জুন গাজীপুরে বিআরটি বাস ডিপো নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, গাজীপুরে আরো ছয়টি ফাইওভার নির্মাণ করা হবে।

বিতর্কিত উড়াল সড়ক, ফাইওভার : নগরীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়ক যে যানজট কমাতে পারে না বরং আরো বাড়ায় তার সর্বশেষ বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মৌচাক-মগবাজার-সাত রাস্তাব্যাপী ৯ কিলোমিটার উড়াল সড়ক। গত ২৬ অক্টোবর এ উড়াল সড়ক উদ্বোধনের পর থেকে মৌচাক মগবাজারের যানজট ছড়িয়ে পড়েছে বাংলামোটর, রাজারবাগ, শান্তিনগর, তিব্বত নাবিস্কোসহ চার দিকের সব এলাকায়। শুধু তাই নয় উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিন স্বয়ং উড়াল সড়কের ওপরই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। টানা ছয় বছর অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এ প্রকল্পের কারণে এ এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারীদের। এখন সেটি নগরবাসীর গলার কাঁটা। এটি নির্মাণে খরচ হয়েছে এক হাজার ২১৮ কোটি টাকা।

১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিজয় সরণী-তেজগাঁও লিংক ফাইওভার চালু হয় ২০১০ সালে। উদ্বোধনের পর থেকে এখন অবধি এ ফাইওভারের ওপর অসহনীয় যানজট নিত্যদিনের ঘটনা।

দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী উড়াল সড়ক উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে। কয়েক বছর ধরে নানা কারণে এটিও ছিল ঢাকার বহুলালোচিত এবং বিতর্কিত একটি প্রকল্প। শেষ পর্যন্ত এ উড়াল সড়কটিও চালুর পর থেকে এখন অবধি ওই এলাকার যানজটের খবর শিরোনাম হচ্ছে গণমাধ্যমে। রাতে কাঁচপুর ব্রিজ পার হবার আগে থেকেই যানজট শুরু হয় এবং যাত্রাবাড়ী পার হতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগে। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে এ উড়াল সড়কে উঠতে চায় না অনেকে। এ উড়াল সড়কের নিচে যানজট স্বাভাবিক ঘটনা। পলাশী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত রাস্তাসহ এ উড়াল সড়কের নিচের দীর্ঘ এলাকা পর্যন্ত মূল রাস্তাটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে দৈত্যাকার পিলারের মাধ্যমে।

চট্টগ্রামে বহদ্দরহাট ফাইওভার উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর। কদমতলী ফাইওভার চালু হয় ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। দেওয়ানহাট ফাইওভার উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালে। এ তিনটি ফাওভার নির্মাণে মোট খরচ হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এ তিনটি ফাইওভারই যানজট নিরসনে ব্যর্থ মর্মে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বহদ্দরহাট ফাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জনের মৃত্যু হয় ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর।

৬৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত পাঁচ দশমিক দুই কিলোমটার দীর্ঘ উড়াল সড়কের কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। গত জুন মাসে সাময়িকভাবে খুলে দেয়া হবে এ ফাইওভারের মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার অংশ। এ ফাইওভারটির পরিণতিও পূর্বের তিনটি ফাইওভারের মতো হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছে না একটি ফাইওভারও। কিন্তু তারপরও কেন চট্টগ্রামে আবার বিমানবন্দর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের উড়াল সড়কের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকে।

১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৫ সালে ঢাকায় প্রথম চালু হয় মহাখালী ফাইওভার। এটি উদ্বোধনের পর মহাখালীর যানজট স্থানান্তর হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে। শেষ পর্যন্ত তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দরের ভেতর দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ করতে হয় এ সমস্যা দূর করতে। কিন্তু মহাখালী এলাকায় যানজট পুরোপুরি দূর হয়নি এখনো। নকশার ত্রুটির কারণে এটি ফাইওভার না হয়ে হয়েছে রেল ওভারপাস। মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে যানজট দূরীকরণে এর কোনো ভূমিকা নেই।

অন্যান্য ফাইওভার, উড়াল সড়ক : ৩৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মিরপুর-বিমানবন্দর উড়াল সড়ক উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালের ২৭ মার্চ। ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ কুড়িল উড়াল সড়ক উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালের আগস্টে। ১২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত খিলগাঁও ফাইওভার চালু করা হয় ২০১৫ সালের ২৩ মে।

১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বনানী ওভার পাস চালু হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ৭০ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০০ মিটার দীর্ঘ মাওনা ফাইওভার চালু হয় ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল।

কার্যকর ফাইওভার : আন্তর্জাতিক নগর পরিবহন বিশেষজজ্ঞ ড. মাহবুবুল বারী বলেন, ব্যস্ত নগরীতে রেলক্রসিংয়ের ওপর বক্স কালভার্ট, ওভারপাস বা সংক্ষিপ্ত পারিসরে ফাইওভার কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে রেলক্রসিংয়ের যানজট দূর করতে। বিশ্বের সব ব্যস্ত নগরীতে রেলক্রসিংয়ের ওপর বক্সকালভার্ট বা ওভারপাস থাকে। তিনি বলেন, রেলক্রসিংয়ের যানজট দূর করতে অবিলম্বে সবগুলো ক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস বা বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা দরকার।
বাস্তবে দেখা গেছে ঢাকার বনানী রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস, খিলগাঁও ফাইভার ও কুড়িল ফাইওভারসহ আরো কয়েকটি ওভারপাস সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যানজট দূরীকরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। খিলগাঁও ফাইওভারের নিচে এখনো যানজট আছে তবে তা মূলত রিক্সার জট এবং সেটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারসেকশনের ওপর সংক্ষিপ্ত পরিসরে পরিকল্পিতভাবে ফাইওভার নির্মাণ করা গেলেও যানজট দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু ভুল পরিকল্পনার কারণে ঢাকার বেশ কয়েকটি ফাইওভার অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে উড়াল সড়ক নয় বরং অতিরিক্ত প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ, বিকেন্দ্রীকরণ, ঢাকামুখী মানুষের ঢল থামানো, রাস্তায় গাড়ি পার্কিং বন্ধসহ বিদ্যমান রাস্তার পূর্ণ ব্যবহার, উন্নত ব্যবস্থাপনা, বাস ও সারফেস রেল নির্ভর উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকার যানজট ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নিরসন সম্ভব। সেজন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিলাসবহুল এসব প্রকল্প গ্রহণের কোনো দরকার নেই। সূত্র: নয়া দিগন্ত

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech