সংকটের মুখে বাংলাদেশ রেল

  

পিএনএস ডেস্ক: দীর্ঘদিন পর ট্রেনের ইঞ্জিন-বগি কেনায় নজর দিয়েছে সরকার। বর্তমানে ২৭৫টি ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) রয়েছে রেলের বহরে। এগুলোর মধ্যে ৮০ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ; মেরামতের মাধ্যমে সচল রাখতে হচ্ছে। এদিকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেনের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম। মেকানিক্যাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি তুলে ধরলেও যথাযথ বিহিত হচ্ছে না। কিন্তু একের পর এক নতুন-নতুন প্রকল্পে বেশ আগ্রহী সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। এর নেপথ্যে কিছু কর্মকর্তার বিদেশ সফর ও পকেট ভারী হওয়া অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, সুষ্ঠু মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমেই বাড়ছে ইঞ্জিনের অক্ষমতা। এজন্য যন্ত্রাংশ ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দায়ী। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানিযোগ্য যন্ত্রাংশের দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে কিংবা বাতিল হয়ে যাচ্ছে দরপত্র প্রক্রিয়া। তদুপরি আছে বাজারদরের সঙ্গে দরপত্রের অসামঞ্জস্যতা। এ সংকট থেকে উত্তরণ না ঘটলে ট্রেন পরিচালনা সম্ভব নয় বলে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিংস্টক) মো. শামসুজ্জামান বলেন, সব ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণে অসুবিধা হচ্ছে না। বৈদেশিক উৎস থেকে আনা যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। তবে এটা সাময়িক।

জানা গেছে, রেলের ইঞ্জিন সংকটের প্রেক্ষাপটে অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ, যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কেনা হবে। এ ছাড়া এডিবির অর্থায়নে ১০টি মিটারগেজ ও ৪০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। আরও ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনা হবে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে। অবশ্য এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব লোকোমোটিভ রেল বহরে যোগ হলে ট্রেন পরিচালনা সহজ হবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন রেলকর্তারা। কিন্তু তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন মেরামতের বিষয়টি। যদিও নতুন করে কেনার পাশাপাশি বিদ্যমানগুলোর মেরামতকে গুরুত্ব না দিলে অকেজো হয়ে যেতে পারে পুরো কার্যক্রম। গুরুতর এ অবস্থা থেকে উত্তরণে রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি রেলওয়ের ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের প্রাপ্যতা, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও মালামাল ক্রয়বিষয়ক বৈঠক হয় রেল ভবনে। সেখানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা লোকোমোটিভের গুরুত্ব এবং এর সংকটের নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন। বর্তমানে মানসম্মত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হচ্ছে না বলে ওই সভায় মন্তব্য করেন প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী। তার মতে, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রয়োজনের সময় জরুরি মালামাল পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ভারী মেরামতে যেসব আইটেম থাকা দরকার সেগুলো নেই। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য মেরামতাধীন ইঞ্জিন থেকে ক্যানিবালেইজ করে (একটা থেকে খুলে আরেকটায় লাগানো বা জোড়াতালি দেওয়া) ডেলিভারি (আউটটার্ন) দেওয়া হয়। এ সংকট থেকে উত্তরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্র মতে, রেলের কারখানা এবং রানিংশেডে একদিকে রয়েছে জনবল সংকট। অন্যদিকে আছে যন্ত্রাংশের অভাব। যেমন সিলিন্ডার লাইনার, পিস্টন, রিং, কমপ্রেশার ও টার্বোচার্জারের মতো অত্যাবশ্যকীয় মালামাল না থাকায় মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। ৬ বছর পর পর ভারী মেরামতকে বোঝায় জিওএইচ তথা জেনারেল ওভারহলিং। এ ছাড়া অনেক লোকোমোটিভ ট্রাকশন মোটর ঘাটতি নিয়ে চলছে। বিয়ারিংয়ের অভাবে ট্রাকশন মোটর মেরামত করা যাচ্ছে না। তাই ট্রাকশন মোটর ক্যাপ বোল্ট ত্রুটির কারণে ভেঙে যাচ্ছে। এ ছাড়া চলাচলের সময় লোকোমোটিভের উইক ফেল্ট ও সাপোর্ট বিয়ারিংয়ে সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এক্সেল। আছে শক-এবজরভারের ত্রুটি। এটি বিদেশ থেকে আনার পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করায় এ অবস্থা হয়েছে। ইঞ্জিনের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে লো লুবঅয়েল প্রেশার ও ব্রেক প্রেশার। শোনা যাচ্ছে কনট্যাক্ট টিপ খারাপ ও নিম্নমানের হওয়ায় কুলিং ফ্যান উইন্ডিংয়ে সমস্যার কথা। এসব বিষয় তুলে ধরলে এডিজির পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের বলা হয় বহরে নতুন লোকোমোটিভ যুক্ত হতে ২-৩ বছর সময় লাগবে। এ সময়ে সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। সূত্র: আমাদের সময়

পিএনএস/কামাল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech