কারাগারে বন্দী জঙ্গিদের থেকে আলাদা রাখা হচ্ছে অন্যদের

  

পিএনএস ডেস্ক: বাংলাদেশের জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অপরাধে যারা কারাগারগুলোতে বন্দী রয়েছেন তাদেরকে অন্য বন্দীদের থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা হচ্ছে। ঢাকা কেন্দীয় কারা মহাপরিদর্শক ব্রি. জেনারেল সৈয়দ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জঙ্গি তৎপরতার সাথে সরাসরি যুক্ত বা সন্দেহভাজন এমন প্রায় ৬০০ জন লোক এখন কারাগারে বন্দী আছেন।

তারা এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন যাতে সাধারণ কয়েদিদের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ যাতে না হয়, এবং তারা তাদেরকে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত করতে না পারে। এমনকি কারাগারে যে রক্ষী বা কর্মচারীরা এই বন্দীদের দেখাশোনা করে তাদেরকেও এক জায়গায় বেশি দিনের জন্য ডিউটি দেয়া হচ্ছে না। খবর-বিবিসি

এসব জঙ্গিদের সাথে যাতে কারাগারের ভেতরে অন্যরা খুব বেশি সংস্পর্শে আসতে না পারে এবং জঙ্গিরা যাতে তাদেরকে নিজেদের ভাবাদর্শে প্রভাবিত না করতে পারে - সে জন্যই তাদের বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে। একই সাথে একটি জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত কয়েদিদেরও একই ধরণের অন্য সংগঠনের কয়েদিদের থেকে পৃথক রাখা হচ্ছে, যাতে তারা কারাগারের ভেতরে বসে নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি না করতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সমাজের বিভিন্ন স্তরে উগ্র মৌলবাদ এখন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা। এই মৌলবাদ চরমবাদে এবং চরমবাদ জঙ্গিবাদে রূপ নিচ্ছে। নির্মোহ বাস্তবতা হল, জঙ্গিবাদ এবং জঙ্গিবাদের সম্ভাব্য উত্থান এই অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সভ্যতার জন্য বড় আকারের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিকভাবে প্রধান সমস্যা। দুদশক আগেও শুধু আল কায়েদা এবং তালেবান নামে দুটি জঙ্গি সংগঠনের বিশ্বব্যাপী পরিচিত ছিল। এখন এই দুই সংগঠনসহ নাইজেরিয়াতে বোকো হারাম, সোমালিয়াতে আল-শাহব, সিরিয়াতে আইএস, বিন লাদেন-ফ্রন্ট লাইন ও আল নুসরা এবং লিবিয়াতে আনসার আল-শরিয়ার মতো বহু জঙ্গি সংগঠন রয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন এ ধরণের বন্দীদেরকে কারাগারের 'হাই-সিকিউরিটি অংশে' রাখা হয় এবং সেখানে তাদের গাদাগাদি করে রাখার প্রয়োজন হয় না। এই বন্দীদের জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার কোন চেষ্টা হচ্ছে কি?

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরণের একটি কর্মসূচি এখন পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech