অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জোর দিচ্ছে সরকারও

  


পিএনএস ডেস্ক: অতীতের মতো এবারও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। সরকারও এবার জোর দিয়ে বলছে, তারাও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। পশ্চিমা দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যেহেতু বিএনপির যোগাযোগ আছে, তাই ওই দূতাবাসগুলোরও উচিত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে উৎসাহিত করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকাস্থ এক কূটনীতিক বলেন, সরকারের এখানে লুকানোর কিছু নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় একটা অস্বস্তি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পরবর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। বিদেশি বন্ধুরা একে স্বাগত জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপসহকারী এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিসা কার্টিস আগামী দিনে এ দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে জানতে চান। তিনি গত ৩ মার্চ পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে এবং পরদিন ৪ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে এ প্রত্যাশার কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিসা কার্টিসকে বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। লিসা কার্টিস বহু দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করে তাঁকে বলেছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বহু দলের অংশগ্রহণেই অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোর পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ঢাকাস্থ পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তারা সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সহিংসতার পথ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বলেন, তাঁরা শুধু নির্বাচন বা ভোটে অংশগ্রহণই নয়; গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী দেখতে চান। তিনি আশা করেন, আগামী নির্বাচনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে বেশি দল অংশ নেবে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিদেশিরা এখন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করলে সরকার বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে তাদের কাজ করতে বলছে। এ প্রসঙ্গে গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আহ্বানের উদাহরণ দিয়েছেন কূটনীতিকরা। তোফায়েল আহমেদ আগামী নির্বাচনে সব দলকে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সমর্থন চেয়েছেন।

জানা গেছে, সরকার এরই মধ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও অতিথিদের স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বিদ্যমান নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা, অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সরকার চায় আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিক। সূত্র: কালের কণ্ঠ

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech