প্রশ্নফাঁস নিয়ে একি বললেন প্রধানমন্ত্রী!

  

পিএনএস ডেস্ক : পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের বিষয়কে ডিজিটাল প্রযুক্তির কুফল হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই সমস্যা উন্নত বিশ্বেও আছে।

সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। পরে এক ভাষণে একথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল হওয়াতে যেমন সুফলও আছে, সেই সঙ্গে সঙ্গে কিছু কুফলও আছে। খুব তাড়াতাড়ি তা প্রচার হয়ে যায়।

এবারের কৌশলকে চমৎকার বলেন শেখ হাসিনা, আধা ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীরা ঢুকে যায় পরীক্ষার হলে, ২৫ মিনিট আগে জানানো হবে প্রশ্নপত্র তাকে, কোন সেটটা নেওয়া হবে। তার ফলে নকল বন্ধ হয়েছে।

যারা পাস করেছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে, যারা ফেল করেছে তাদের নতুন উদ্যমে পড়াশোনা করে আবার পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্লাসে পড়াশোনা চান প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ক্লাসগুলোতে পড়াশোনা যেন ভালোভাবে হয়, সেদিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে।

সরকার শিক্ষাকে আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে চাই যেন আগামী দিনে আমাদের জাতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। আমাদের নতুন প্রজন্ম সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে, সেভাবেই আমরা তাদের গড়ে তুলতে চাই।

ভালোভাবে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটাই কথা বলব আমাদের ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে। সম্পদ হচ্ছে শিক্ষা, এই সম্পদকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

ছিনতাইকারীও নিতে পারবে না, চুরি ডাকাতি করেও নিতে পারবে না। এটা হচ্ছে সব থেকে বড় সম্পদ। কাজেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

অনেক জনবল লাগবে

প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে যে বিপুলসংখ্যক জনবল দরকার, সেই বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি, আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, সেখানে অনেক জনবল দরকার, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্যও জনবল দরকার, সমুদ্র গবেষণার জন্য দরকার।

পড়াশোনা করলে বিদেশেও চাকরির সুযোগ আছে, সেটি স্মরণ করিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেবল আমাদের দেশে না, বিদেশেও জনশক্তির চাহিদা আছে। আমাদের তো জনবল আছে। জনগণই আমাদের সম্পদ। সেই সম্পদকেই আমরা কাজে লাগাতে চাই।’

সময় কমিয়ে আনার তাগিদ

এবার পরীক্ষার ফল দেওয়া হয়েছে ৫৫ দিনে। এর চেয়ে কম সময়ে কখনো ফল প্রকাশ হয়নি। এ বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষক এবং শিক্ষাবোর্ড প্রধানদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে পরীক্ষার সময়কাল কমিয়ে আনার তাগিদও আসে সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, ২ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু আর ২৪ মে পর্যন্ত পরীক্ষা চলেছে। এটা দীর্ঘ সময়। রেজাল্ট দিতেও আপনারা এত সময় নিলেন না, পরীক্ষা নিতে যত সময় নিয়েছেন।

নিজের ছাত্রজীবনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি তখন তো দুই বেলা করে পরীক্ষা দিতে হতো। সকালে এক পত্র, বিকালে এক পত্র। আমাদের তো দম ফেলার সময় থাকত না। সাত দিনে পরীক্ষা শেষ।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech