প্রতিবেশী কোনো দেশের সাথে বাংলাদেশের কোটা পদ্ধতির কোন মিল নেই

  

পিএনএস ডেস্ক :সরকারি চাকরিতে কোটা সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদন সংগ্রহ করছে কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা কমিটি। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মতো এত বেশি শতাংশ এবং দীর্ঘ মেয়াদী কোটা পদ্ধতি কোনো দেশেই নেই।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা রয়েছে। কোটা চালুর পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সুস্পষ্ট রায় দেয় যে, এই কোটা পদ্ধতি পাঁচ বছরের বেশি রাখা যাবে না। পরে ভারতের সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থার সময়সীমা বাড়ানো হয়। কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরে আরো জানায়, কোটা ৫০ শতাংশের নিচে রাখতে হবে। ভারতের সব প্রদেশেই এখন সেটা কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ভারতে কোটার জন্য রয়েছে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা। একটি পরিবারের মাত্র একজনই কোটাসুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। যদি কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য কোটা গ্রহণ করেন তবে তিনি চাকরিতে কোটা সুবিধা পাবেন না।

মালয়েশিয়াতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি চালু রয়েছে। তাদের কোটা পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো- সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমতা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনা। এক্ষেত্রে তারা কিছুটা সফলতার মুখও দেখেছে। তাদের কোটা পদ্ধতি অনুযায়ী মালয় মুসলিমদের (ভূমিপুত্র) জন্য ৬০ শতাংশ কোটা রয়েছে। কারণ জনসংখ্যার দিক দিয়ে তারা অনেক বেশি। মালয়েশিয়াতে সরকারি চাকরির চেয়ে বেসরকারি চাকরিতে বেতন-ভাতার সুবিধা বেশি হওয়ায় ওই দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে কোটা নিয়ে আগ্রহ নেই।

পাকিস্তানে বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যার ভিত্তিতে কোটা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। অঞ্চলভিত্তিক জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে সেই অনুপাতে কোটা সুবিধা দেয়া হয়। তাদের কোটার উদ্দেশ্য, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যৌক্তিক পরিমাণ মানুষ যেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশেও এক সময় কোটা পদ্ধতি উঠানামা করেছে। তবে ১৯৯৭ সালের পর আর কোটা পদ্ধতিতে কাটছাঁট করা হয়নি। দেশে স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সিভিল সার্ভিসে ২০ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়। পরে ১৯৭৬ সালে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ২০ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। ১৯৮৫ সালে আবার একে ৪৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। তবে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন পে-সার্ভিস কমিশনের একজন সদস্য বাদে সবাই সরকারি নিয়োগে কোটা ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। তখন কোটার পক্ষে অবস্থান নেয়া এমএম জামান প্রচলিত কোটাগুলো প্রথম ১০ বছর বহাল রেখে ১৯৮৭ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরে কমিয়ে দশম বছরে তা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন। পরে আর সেটা কমানো হয়নি।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

এর আগে গত ৮ই জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সংস্কার বা বাতিলের সুপারিশ সংক্রান্ত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের ওই কমিটির বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তে বলা হয়, কোটা সংক্রান্ত দেশে-বিদেশে যে তথ্য রয়েছে বা আমাদের বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিশন বা কমিটির যে রিপোর্ট রয়েছে সেই রিপোর্ট যতদ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করা হবে। এর ভিত্তিতেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech