গ্যাসের সুষ্ঠু ও নিরাপদ সেবা পাচ্ছে অবৈধরা!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : গ্যাসের যন্ত্রণা ছাড়ছে না গ্রাহকদের। বিল দিচ্ছেন, অথচ সময়মতো তারা গ্যাস পাচ্ছেন না- এর চেয়ে দুঃখ ও বেদনার আর কিছু হতে পারে না। গ্রাহকরা বিল যেমন নিয়মিত পরিশোধ করছেন, একইভাবে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে চান।

গ্রাহকদের সেবা পাওয়া করুণা নয়। এটা তাদের টাকার বিনিময়ে ন্যায্য পাওনা। গ্যাস খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি পাহাড়সম, অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেমে নেই। অথচ গ্রাহকরা সম মতো গ্যাস না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ছে। বিল দেওয়া পাশাপাশি এলএনজি কিনতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে।

শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকরাও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরা গ্যাস পান রাতে। ক্ষোভের সঙ্গে গ্রাহকরা তাদের দুর্দশা বর্ণনা করেন। এখনো লাকড়ি, এলএনজি, স্টোভের চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন বৈধ গ্রাহকরা ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর চারপাশে নিম্নাঞ্চলে অবৈধভাবে অবাধে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এদের কাছ থেকে বিলও পাওয়া যাচ্ছে না। কালেভদ্রে গ্যাস বিচ্ছিনের চেষ্টা হলে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধরা ভিড় করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে। এভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে অবৈধ সংযোগগ্রহণকারীরা।

রাজধানী ঢাকার পশ্চিমে বসিলা, মীরপুরের নিম্নাঞ্চল, আমিনবাজার, সাভার, পূর্বদিকে ত্রিমোহনী, উত্তর-পূর্বে বাটারা, শনির আখড়া, বিমানবন্দরের আশপাশে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এগুলোর বিল কখনো সরকারের কোষাগারে যায় না। যায় স্থানীয় নেতা ও গ্যাসের একশ্রেণীর কর্মচারির পকেটে।


ত্রিমোহনী ও বসিলার দুই বাড়িওয়ালা জানান, তাদের গ্যাসের বিল দিতে হয় না। ১০ থেকে ১৫ বছরে কখনো তাদের গ্যাস বিল দিতে হয়নি। কেউ বিল দেয়ওনি, নেবে কোত্থেকে। মাঝে-মধ্যে এসব লাইন কাটতে এলে স্থানীয় এমপি সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে দেন।

মজার ব্যাপার হলো, এসব এলাকায় কখনো গ্যাস সংকট হয় না। তারা গ্যাস সমস্যায় পড়ে না। গ্রামাঞ্চলেও অবৈধরা সময়মতো গ্যাস পান। উপজেলা সদরের বৈধ গ্রাহকদের কাছে যাওয়ার আগেই অবৈধদের দ্বারা গ্যাস পুরিয়ে যায়। ফলে বৈধরা সন্ধ্যার আগে কখনো গ্যাস সঠিকভাবে পান না।

গ্যাসের বিল বাড়ানো হয়েছে কয়েকগুণ। গ্রাহকরা তা নিয়মিত পরিশোধও করছেন। তার পরও সময়মতো গ্যাস না পাওয়া দুঃখজনক। আরো দুঃখ ও কষ্টের ব্যাপার, অবৈধদের যখন গ্যাস পেতে সমস্যা হয় না। গ্রাহক সাধারণ অবৈধ সংযোগ বন্ধ, এ খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং মানসম্পন্ন সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা চায়।

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech