দেশি গরুর চাহিদা থাকলেও ভারতীয় গরুর ভয়ে ব্যবসায়ীরা

  

পিএনএস ডেস্ক : জমে উঠেছে কুষ্টিয়ায় কোরবানির গরু বেচা-কেনার হাট। এসব হাটে বিদেশি প্রজাতির গরু উঠলেও ক্রেতারা ঝুঁকছেন দেশি গরুর দিকে। হাজার হাজার গরু হাটে আসলেও দেশি গরুর দাম তুলনামূলক একটু বেশি বলে বিক্রি হচ্ছে কম।

জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ২৫টি স্থায়ী গরুর হাট রয়েছে। এগুলো হল-কুষ্টিয়া সদরের বালিয়া পাড়া গরুর হাট, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর হাট এটি প্রতি শনিবার এ হাট বসে। এছাড়াও উজানগ্রাম, কমলাপুর, বাঁশগ্রাম, পোড়াদহ, মিরপুর, দৌলতপুরর মথুরাপুর ও আল্লারদর্গা গরুর হাট। তাছাড়া কোরবানি উপলক্ষ্যে পৌর কিংবা শহরতলীতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ছোট ছোট গরুর হাট বসছে।

এবার কুষ্টিয়ায় ২০হাজার ১১০টি খামার রয়েছে। এর মধ্য গরু ৮০ হাজার ১৩৯, ছাগল ৬৪ হাজার ১৮২ এবং ভেড়া ৩ হাজার ১২১। সবেচেয়ে বেশি পশুর খামার রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়। এ উপজেলায় সরকারী মতে ৪৪৮৩টি খামার, গরুর পরিমাণ ১২ হাজার ৩৮৭টি, দৌলতপুর উপজেলায় ৪৪৪০টি খামার, গরু রয়েছে ১৩ হাজার ৯০৭, কুমারখালী উপজেলায় ৪০৯৪ টি খামার, গরুর সংখ্যা ১১ হাজার ৬৯৮টি, খোকসা উপজেলায় ৩১২৯টি খামার, গরু রয়েছে ৮হাজার ৮৭টি, মিরপুর উপজেলায় ২৯৭২টি খামার, গরু রয়েছে ১৩ হাজার ৯৮০টি এবং ভেড়ামারা উপজেলায় ৯৯২টি খামার, যার গরুর পরিমান ২হাজার ৪৫৯টি।

তবে জেলার মিরপুরে এবং দৌলতপুরের মথুরাপুরে গরুর হাটে দেশি গরু শোভা পেলেও খামারীরা আতঙ্কে রয়েছে ভারতের গরু ঢুকে পড়ার ভয়ে। ভারতের গরু দেশে ঢুকলে দেশি গরুর দাম পড়ে যাবে।

হাটে বিদেশি প্রজাতির গরু উঠলেও ক্রেতারা ঝুঁকছেন দেশি গরু দিকে। হাজার হাজার গরু হাটে আসলেও দেশি গরুর দাম তুলনামুলক একটু বেশি বলে বিক্রি হচ্ছে কম। ক্রেতার পছন্দ হচ্ছে গরু। কিন্তু দাম করছে দালাল-ফড়িয়ারা। গরুর প্রকৃত মালিক থাকছে না গরুর কাছে। ফলে ক্রেতা সাধারণ চরম হয়রানি আর প্রতারণা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এতে করে গরু ক্রয়-বিক্রয়ে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে জেলার মিরপুর উপজেলার মিরপুর গরু হাট এবং কুমারখালি উপজেলার বাঁশগ্রাম গরুর হাটে। দেখা গেছে, বরুইটুপি গ্রামের ক্রেতা শামসুদ্দিনের একটি দেশি গরু পছন্দ হয়েছে কিন্তু গরুর দাম মিটাতে আসছে দালাল। কোন মতেই সে দালালের সাথে গরুর দাম করবে না। এ নিয়ে বেশ শোরগোল। অবশেষে হাট মালিকের মধ্যস্থতায় গরুর প্রকৃত মালিকের সাথেই দাম করে গরু কিনলেন শামসুদ্দিন। দালালের খপ্পরে পড়ে গরুর প্রকৃত মালিকদের লাভের চেয়ে লোকসান হচ্ছে বেশি।

হাটে ২ থেকে তিন মণ ওজনের দেশি গরু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫৫ হাজার টাকায়। বিদেশি গরুর দিকে তেমন ঝুঁকছেন না ক্রেতারা। তারপরও কালা পাহাড় নামের গরুটি আনুমানিক ৫ থেকে ৬ মণ ওজন হতে পারে এটি বিক্রি হল দেড় লাখ টাকায়। দেশি গরুর বেচা-কেনা বেশি, ভারতীয় গরুর প্রবেশ শুরু হয়েছে হাটে বিদেশি প্রজাতির গরু উঠলেও ক্রেতারা ঝুঁকছেন দেশি গরু দিকে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মথুরাপুর, ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া এবং কুমারখালি উপজেলার যদুবয়রা গরুর হাট। তিনটি হাটেই দেশি বিদেশি মিলে গরু বেচা-কেনা বেশ ভালই। সব মিলিয়ে গরু পালনকারী চাষী খামারী এবং ক্রেতারা খুশি। ক্রেতাদের পছন্দ মত গরু দামে পড়তা হচ্ছে এবং বিক্রেতারও গরু বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।

হঠাৎ গরুর হাটে ভারতীয় ছোট দেশি প্রজাতির গরু দল বেধে প্রবেশ করায় বেচা-কেনা একটু থমকে গেল। দেশি গরু পালনকারী চাষী খামারীর মধ্যে যেন কেমন একটা আতঙ্ক দেখা গেল। এটি ছিল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুরের মথুরাপুর গরুর হাটের চিত্র। প্রাগপুর-বিলগাতুয়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী সালাম ও নিজাম তাদের খামারের ২৫টি দেশি গরু হাটে এনেছেন। সালাম জানালো অনেক ক্রেতা আসছে কিন্তু দাম বলছে কম। দাম একটু বাড়লে গরু বিক্রি করে দেব। নিজাম জানালো গরুর দাম ভাল থাকলে হবে কি ভারতীয় গরু ঢুকে বাজারটাকে মনে হয় শেষ করে দিবে।

আজাদ নামের বেসরকারী চাকুরীজিবী একজন ক্রেতা জানালেন, হাটে বিদেশী প্রজাতির গরু উঠলেও ক্রেতারা ঝুঁকছেন দেশি গরু দিকে। ফলে একটু দাম বেশি চাচ্ছে। দামে পড়তা হলেই কোরবানীর গরু কিনবো। টাকা দিয়ে ভারতীয় কিংবা বিদেশী কোন গরু কিনে কোরবানী দিবো না। যে দামই হোক না কেন দেশি গরু কিনবো।

দুপুর ১২টা বাজতে না বাজতেই আসুন ভাই দেশি গরু, ভাল গরু, কিনে অনেক পড়তা হবে। শনিবার ব্যাপারীদের এমন হাক-ডাকে জমজমাট হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া জেলার সব চেয়ে বড় বালিয়াপাড়া গরুর হাট। এই গরুর হাটে ঢাকা চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারী গরু কিনতে আসে।

কথা হল-ঢাকার ব্যাপারী হাসমত দেওয়ানের সাথে। ঢাকা থেকে এই হাটে গরু কিনেতে এসেছেন কেন? বললেন এই হাটে রিষ্ট-পুষ্ট স্বাস্থ্যবান গরু পাওয়া যায়। দামও পড়তা জনক। তিনি প্রায় ৫০টি গরু কিনেছেন। পাশাপাশি এলাকার ব্যাপারী এবং কোরবানীর জন্য কেনা ক্রেতাতো রয়েছেনই।

দেশি বিদেশি মিলে গরু বেচা-কেনা বেশ ভালুই। সব মিলিয়ে গরু পালনকারী চাষী খামারী এবং ক্রেতারা খুশি। ক্রেতাদের পছন্দ মত গরু দামে পড়তা হচ্ছে এবং বিক্রেতারও গরু বিক্রিতে লাভবান হচ্ছে। এতে প্রায় এই হাটে কয়েক কোটি টাকার গরু বেচা-কেনা হচ্ছে। জমজমাট গরুর হাট। বেচা-কেনা তুঙ্গে।

গাজী সাজেদুর রহমান নামের একজন ক্রেতা জানালেন, কুষ্টিয়ার সব চেয়ে বড় গরুর হাটে দেশি-বিদেশি প্রজাতির গরু উঠছে অনেক। স্থানীয় ক্রেতারা ছাড়াও বাইরের ব্যাপারীরা এসেছেন গরু কিনতে। ফলে দেশি গরুর দাম একটু বেশি চাচ্ছে। দামে পড়তা হলেই কোরবানীর গরু কিনবো। টাকা দিয়ে ভারতীয় কিংবা বিদেশি প্রজাতির কোন গরু কিনে কোরবানী দিবো না। যে দামই হোক না কেন দেশি গরু কিনবো। খামারী মোকাদ্দে আলী জানালো অনেক ক্রেতা আসছে কিন্তু দাম বলছে কম। ৮টি গরু বিক্রি করেছি। দাম একটু বাড়লে সব গরু বিক্রি করে দেব।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech