রাজধানীর পশুর হাটে শেষ দিনে কমেছে গরুর দাম

  

পিএনএস ডেস্ক : রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। গত কয়েকদিন কোরবানির হাটগুলোতে পশু কেনাবেচার ধুম থাকলেও ঈদের আগের দিন ক্রেতা খরা লক্ষ্য করা গেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে। এমন অবস্থায় লক্ষ্য অনুযায়ী গরু বিক্রি হবে না বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ, খামারি ও বেপারিরা।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা নাগাদ রাজধানীর গাবতলী, মেরাদিয়া, কমলাপুর ও সায়েদাবাদ পশুর হাট ঘুরে এমন পরিস্থিতিই দেখা গেছে। শেষ সময়ে বেচাবিক্রিতে ভাটা পড়ায় লোকসানের আশঙ্কার মুখে পড়ছেন বিক্রেতারা।

আফতাবনগর পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে এসেছেন বেপারী আব্দুল হালিম। কথা হয় তার সঙ্গে। বলেন, ‘যে গরু গতকাল ৫০ হাজার টাকা দর উঠেছিল, সেটি আজকে সকালে ৪৫ হাজার টাকা দিতে চাইল, তারপর দুপুরে আরও কমে ৪০ হাজার টাকা বলছে।’

তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আগে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে যে গরুটি তিনি কিনেছিলেন, সোমবারও হাটে ক্রেতারা ওই গরুর জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে চাইছিরেন। কিন্তু মঙ্গলবার দর পড়তে পড়তে মঙ্গলবার দুপুরে ৮০ হাজার টাকার বেশি কেউ দিতে চাইছেন না।’

এবার ১৩টি গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন জানিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, ‘এখনও দুইটা গরু বিক্রি বাকি। শেষ বেলায় এসে বিপদে পড়ে গেলাম।’

এবার হাটের শুরু থেকেই বিক্রেতারা বেশি দাম চাইছেন বলে অভিযোগ করে আসছিলেন ক্রেতারা। তার মধ্যেও গত দু’দিনে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা হয়।

তবে ভারতীয় গরু না আসায় শেষ মুহূর্তে পশুর সঙ্কটে দাম আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন কোনও কোনও বিক্রেতা। এমন সম্ভাবনায় অনেকেই গতকাল সোমবার একটু বেশি দামেই গরু কিনে ফেলেছেন। কিন্তু সোমবার রাতে ঢাকার হাটগুলোতে নতুন করে প্রচুর পশু আসায় দাম কমতে দেখা যায়।
গরু-কোরবানি

ঝিনাইদহ থেকে গরু নিয়ে হাটে এসেছেন আতিয়ার রহমান। এই ব্যাপারি বলেন, ‘এই গরুর দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। গতকাল এক লাখ ২০ হাজার উঠছিল, আজকে দাম বলে মাত্র ৮০/৮৫ হাজার। যে গরুর দাম সোমবার এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় উঠেছিল, বাজার খারাপ বুঝে মঙ্গলবার সেটা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। এবার আমরা শেষ হয়ে গেছি, প্রতি গরুতে ১০/২০ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।’

নাটোরের গরুর ব্যাপারি আব্দুর রহিম বলেন, ‘১৭টি গরু এনেছিলাম। রাত পোহালে ঈদ, কিন্তু এখনও ৬টা বিক্রি হয়নি। গতকাল যে তিনটা গরুর জন্য ২ লাখ ৩৫ হাজার দাম উঠেছিল, সেটা আজকে ২ লাখ ২০ হাজার দাম বলছে। ইন্ডিয়ান গরু না আসার পরও কেন দাম কমে গেল তা বুঝতে পারছি না, নাকি মানুষের হাতের অবস্থা খারাপ?’

ক্রেতাদের একজন শামসুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে বাজারে ঘুরছি, দাম তেমন চড়া মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে আশানুরূপ গরু কিনতে পারব। আর কিছুক্ষণ বাজার যাচাই করে তারপর কিনে নেবো।’

একই কথা বলছেন অন্যান্য হাতে গরু কিনতে আসা ক্রেতারাও। তবে মঙ্গলবার অনেক খামারি ও ব্যাপারিকেই ট্রাকে করে হাট থেকে গরু নিয়ে চলে যেতেও দেখা গেছে। শেষ আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গরু নিয়ে হাটে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে অনেক বিক্রেতাকে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech