সাংবাদিকদের হৃত গৌরব ফিরিয়ে দিয়ে আন্তরিকতা প্রমাণ করুন

  



পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের উপর নানা রকম নিপীড়ন চলছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির বিচার নিয়ে দেশব্যাপী সর্বস্তরের মানুষের দাবির পরও চিহ্নিত চক্রকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনায় গণমাধ্যমে কর্মরতরা এক রকম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে। একের পর এক অব্যাহত হত্যাকাণ্ড, হামলা-মামলা, নির্যাতনের ফলে সর্বসাধারণের কাছে এটাই আজ প্রমাণিত সত্য যে, সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা।

ভিন্নমতের কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হওয়ায় অসংখ্য সাংবাদিক বেকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পরিবার নিয়ে তারা কষ্টকর জীবন যাপন করছেন। সাগর-রুনিসহ সাংবাদিক হত্যার মিছিল ত্রিশের কোটা অতিক্রম করলেও সহকর্মীদের বিচারের শ্লথগতি সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। এতে সুযোগ বুঝে নানা ছলছুতায় সমাজে সাংবাদিক হয়রানি বেড়ে গেছে।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি ও ফরহাদ খাঁকে হত্যা করা হয় শয়নকক্ষে। সাগর-রুনির বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় সাংবাদিক সমাজসহ আইনের শাসনে বিশ্বাসী সচেতন জনগোষ্ঠী যারপরনাই বিস্মিত। সব মিলিয়ে সাংবাদিক নির্যাতন ঘরে-বাইরে, রাজপথে এমনকি কর্মস্থলেও সংঘটিত হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি একশ্রেণীর মালিক সাংবাদিকদের পাওনা-দেনা নিয়ে চরম অনিয়ম করে যাচ্ছেন। নিয়ম মেনে সব সুযোগ-সুবিধা নিলেও সাংবাদিকদের পারিশ্রমিক নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। অনেকে ঈদে বোনাসও দিচ্ছেন না!

এত কিছুর পরও ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন নীতিবান অসংখ্য সাংবাদিক। তারা এ পেশাকে ভালোবাসেন। ভালোবাসার অন্যতম কারণ এক সময় এ পেশার সম্মান ও মর্যাদা ছিল। ফলে অনেকে বিসিএস ক্যাডারে না গিয়ে এ পেশায় আসতেন। আর্থিক ও সম্মান দিক ভালো ছিল বলে সাংবাদিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ২০০৬ সালে সাংবাদিকদের মর্যাদায় আঘাত হানা হয়, যা থেকে আজও নিষ্কৃতি মেলেনি।

সচেতন মানুষ মাত্রই তার মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার চান; সাংবাদিকরা এ থেকে বাইরের কেউ নন। আর সেটাই যদি কেড়ে নেওয়া হয়, এর চেয়ে দুঃখ-পরিতাপের বিষয় আর কিছু হতে পারে না। আর হ্যাঁ, বুঝে হোক না বুঝে হোক অপরিণামদর্শীরা ২০০৬ সালে সেটা কেড়ে নেয়। সাংবাদিকরা মর্যাদা, সম্মান ও অধিকারের কাঙ্গাল নন, তারা তাদের হৃত গৌরব, অধিকার ও মর্যাদা ফিরে পেতে চান। সে যৌক্তিক দাবিতে তারা সোচ্চার। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা সে ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘দি নিউজ পেপার অ্যাম্পোলয়ার্স (কন্ডিশন সার্ভিস) অ্যাক্ট- ১৯৭৪’কে রহিত করে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ প্রবর্তনপূর্বক মর্যাদাপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত সাংবাদিক সমাজকে সাধারণ শ্রমিকদের কাতারবদ্ধ করে দেওয়া হয়। সে কালো অধ্যায়টি থেকে বের করে এনে সাংবাদিকদের দি নিউজ পেপার অ্যাম্পোলয়ার্স (কন্ডিশন সার্ভিস) অ্যাক্ট- ১৯৭৪-এ ফিরিয়ে আনার যৌক্তিক দাবি আজও পূরণ হয়নি।

বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সব সময় নিজেদের সাংবাদিক বান্ধব হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। আর বর্তমান তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সঙ্গে সচিবালয়ে মতবিনিময়ের সময় বলেছিলেন, সাংবাদিকদের হৃত মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সচেষ্ট। আর তিনি সেটা করবেন। এ জন্য অন্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়ও জড়িয়ে গেছে। সরকার প্রধানের সম্মতি পেলে প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করে দি নিউজ পেপার অ্যাম্পোলয়ার্স (কন্ডিশন সার্ভিস) অ্যাক্ট- ১৯৭৪-এ ফিরে নেবেন তিনি।

সরকার শেষ সময়ে এসে গেছে। সাংবাদিকরা অতিরিক্ত কিছু চায় না। তারা তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া মর্যাদাটুকু ফিরে পেতে চায়। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সত্যিকার অর্থে সাংবাদিক-বান্ধব হলে (তারা যা সব সময় বলে), সময় থাকতে দি নিউজ পেপার অ্যাম্পোলয়ার্স (কন্ডিশন সার্ভিস) অ্যাক্ট- ১৯৭৪-এ ফিরে গেলে বা নিলে কথায়-কাজের শতভাগ মিল পাবে সাংবাদিক সমাজ। বর্তমান বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ পেশার সব দুঃখ-কষ্ট-বেদনা, হতাশা-ক্ষোভ কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে, যদি তারা হৃত গৌরব- পেশাগত মর্যাদা, সম্মান ও অধিকারটুকু ফিরে পায়। দায়িত্বশীলদের মনে রাখতে হবে ‘সময়ের এক ফোড় অসময়ের দশ ফোড়ের চেয়েও উত্তম’।

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech