বাড়ছে গ্যাসের দাম

  

পিএনএস ডেস্ক : এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) চলে আসায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) ‘সহনীয়’ পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়াতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

শনিবার ঢাকায় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, খুব শিগগিরই গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। তবে আমরা বিইআরসিকে বলেছি, দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ২০ হাজারের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হয়েছে। এটাকে ৪০ হাজার মেগাওয়াট নেয়ার পরিকল্পনা আছে।

উপদেষ্টা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য নেট মিটারিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। নতুন এই পদ্ধতি শুরু করতে অনেকে নানা চিন্তা করছেন। কিন্তু উদ্যোক্তারা নিজেদের ছাদ ব্যবহার করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪০ ভাগ ব্যয় সাশ্রয় হবে। এখানে জমি প্রয়োজন নেই। উদ্যোক্তারা দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের প্রয়োজন মেটাবেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেবেন। তার যখন প্রয়োজন হবে তখন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেবেন। ছুটির দিনে তিনি পুরো বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। প্রয়োজনে সরকার প্রণোদনা দেবে।

জুনের ১১ তারিখ থেকে দাম বাড়ানোর উপর শুনানি শুরু করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় দাম ৭ টাকা ৩৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৯৫ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো। অর্থাৎ বর্তমানের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর যুক্তি হিসেবে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বিইআরসিতে দেওয়া এক উপস্থাপনায় দেখানো হয়েছে, ২৫ টাকা ১৭ পয়সা দরে কিনে এর সঙ্গে ভ্যাট, ব্যাংক চার্জ, রিগ্যাসিফিকেশন চার্জসহ নানা ধরনের চার্জ যোগ করে আমদানি করা এলএনজির বিক্রয়মূল্য মূল্য দাঁড়াবে ৩৩ টাকা ৪৪ পয়সা। এই অঙ্ক দেশে বর্তমানে বিক্রিত গ্যাসের চার গুণ বেশি।

নতুন গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন নির্মাণে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে জিটিসিএল প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন চার্জ দশমিক ২৬৫৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দশমিক ৪৪৭৬ পয়সা অর্থাৎ ৬৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর শুনানি হয়।

অন্যদিকে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করা গেলে প্রচলিত দাম বহাল রেখেই আমদানি করা এলএনজির দাম সমন্বয় সম্ভব বলে মত দেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।

শুনানি শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার। ওই হিসেবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বিইআরসিকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech