পাঙাশের কেজি ৮০০, ইলিশের কেজি ১০০ টাকা!

  

পিএনএস ডেস্ক :কম দামি মাছের তালিকা করলে হয় তো সবার আগে আসবে পাঙাশ। যে বাজারে তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হয় ১৪০-১৫০ টাকায়, সেই বাজারে পাঙাশ মাছের কেজি মেলে ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। তা হলে পাঙাশের কেজি ৮০০ টাকা হয় কী করে?

এটি নিশ্চয়ই আষাঢ়ে গল্প। পাঠক হয় তো এমনই ভাবছেন। তবে বাস্তবে একটি পাঙাশ মাছের কেজি ৮০০ টাকা চাচ্ছেন এক মাছ ব্যবসায়ী। শান্তিনগর বাজারে মাছের ব্যবসা করা এই ব্যবসায়ী নিজেকে নিশিত বলে পরিচয় দেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নিশিত বিভিন্ন মাছের পাশাপাশি একটিমাত্র পাঙাশ নিয়ে বসে আছেন। পাঙাশটির ওজন প্রায় ছয় কেজি। দাম জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, কেজি পড়বে ৮০০ টাকা।

কিন্তু তার মাছের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন পাঙাশ মাছটির দাম জানতে চান। দাম শুনেই যেন আগ্রহীরা ভড়কে যাচ্ছিলেন। ফিরতি কোনো দাম না বলেই সবাই অন্যদিকে হাঁটা শুরু করেন।

পাঙাশ মাছের দাম এতো কেন- এমন প্রশ্ন করা হলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ভালো জিনিস খেতে হলে দাম তো একটু বেশি দিতেই হবে। এটা চাষের পাঙাশ না। সম্পূর্ণ দেশি পাঙাশ। এর স্বাদ যে কোনো মাছের থেকে ভালো। এ মাছে তেল অনেক। কোনো গন্ধও নাই। কম দামের পাঙাশে এক ধরনের গন্ধ থাকে।

পাঙাশের দাম শুনে অন্যদিকে হাঁটা ধরা মো. রইস বলেন, নদীর পাঙাশে কালো রঙের কোনো আভা থাকে না। কিন্তু মাছটির পেছনের দিকটা চাষের মাছের মতো কালো। কিন্তু আকারে বড় হওয়ায় ব্যবসায়ী নদীর মাছ বলে বিক্রি করছেন। এ মাছের কেজি কিছুতেই ৮০০ টাকা হতে পারে না। নদীর ভালো পাঙাশই ৫০০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যায়।

মো. খায়রুল হোসেন নামে আর একজন বলেন, এই বাজারে ৫-৬ কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজির মধ্যে। সেখানে পাঙাশের কেজি যদি চাই ৮০০ টাকা তাহলে তো কিছুই বলার থাকে না। যদি কারও মন চাই এ দামে কিনে নিয়ে যাবে। আমার মতো ক্রেতা এটা কিনবে না, এটা নিশ্চিত।

মাছ বাজারে অবস্থান করে দেখা যায়, সবাই পাঙাশ মাছটির দামে শুনে পাল্টা কোনো দাম না বলেই চলে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ী একজনকে বলে ওঠেন, ভাই একটা দাম তো বলেন। কত দাম হলে আপনি নিবেন?

রফিকুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি তখন বলেন, ১২০ টাকা কেজি দরে দেবেন। এরপর ওই ব্যবসায়ী বলেন, তাও ভালো একটা দাম তো বলেছেন। এই দামে আপনি বাজার থেকে ঝিয়া মাছও কিনতে পারবেন না। বাজার খোঁজেন, কোথাও চুনোপুটি পাওয়া যায় কিনা, দেখেন। আপনার জন্য চুনোপুটি কেনাই ভালো।

৮০০ টাকা কেজি দরে কেউ কিনতে আগ্রহী না থাকায় ওই মাছ ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করা হয় আপনি কত দাম হলে বিক্রি করবেন? উত্তরে তিনি বলেন, আমি দাম চাচ্ছি ৮০০ টাকা। দেখি ক্রেতারা কত দাম কয়। কত দামে বিক্রি করবো এখনও ঠিক করিনি। রাত পর্যন্ত কী হয় দেখি।

এদিকে, কয়েক দিন আগেও যেখানে এক কেজি আকারের একটি ইলিশের দাম ছিল ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, এখন সেখানে ১০০ টাকায় এক কেজি পরিমাণ ইলিশ মিলছে। বাজারে নেই, কিন্তু বাড়িতে বসেই কেনা যাচ্ছে ইলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বস্তায় করে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাতে জেলেরা ইলিশ শিকার না করতে পারে সে জন্য চলছে অভিযান।

কিন্তু দিনে অভিযান চললেও রাতে লৌহজংয়ে পদ্মা নদী হয়ে পড়ছে অরক্ষিত। এ সুযোগে কিছু জেলে অবাধে ইলিশ শিকার করছে। কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম না থাকায় গতকাল কোনো অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি বলে জানান উপজেলা ভারপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস তালুকদার।

উল্লেখ্য, গত পাঁচ দিনের মধ্যে মাত্র এক দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পদ্মা নদীতে অভিযানে নামে। গত বুধবার অভিযান চালিয়ে ২৪ জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়।

গতকাল উপজেলার উত্তর হলদিয়া গ্রামে ১৫-১৬ বছরের এক কিশোরকে প্লাস্টিকের বস্তায় করে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যায়। এক গৃহবধূ ছোট-বড় মিলিয়ে ২৩টি ইলিশ কেনেন ৫০০ টাকায়। যার ওজন ছিল পাঁচ কেজি। টাকার হিসাবে এক কেজি ইলিশের দাম পড়ে ১০০ টাকা। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজনীন আক্তার স্বর্ণা ইলিশ নিয়ে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান। গতকাল দুপুরে উপজেলার প্রধান সড়কের বুড়দিয়া থেকে তিনি অটোরিকশায় মাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে কনকসার বাজার থেকে বোরকা পরা ২৫-২৬ বছরের এক নারী ওই গাড়িতে ট্রাভেলিং ব্যাগ নিয়ে ওঠেন। নাজনীন আক্তার তাঁর কাছে জানতে চান ব্যাগে কী আছে? ওই নারী জানান, তাঁর ব্যাগে ইলিশ মাছ আছে। তিনি ১৬টি ইলিশ কিনেছেন ৮০০ টাকা দিয়ে। এই ইলিশ তিনি ঢাকা নিয়ে যাবেন। ওই নারী আরো বলেন, তিনি দিনে তিন-চারবার ঢাকায় গিয়ে ইলিশ বিক্রি করে আসেন।

নাজনীন আক্তার বলেন, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাওয়া নৌ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech