চাকরির বয়স ৩৫ করার দাবিতে টানা অবরোধ

  

পিএনএস ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত শনিবার থেকে রাজধানীর শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এই ঘোষণা দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য গত ২৭ জুন, ১০ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করে। সুপারিশটি ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফের এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বেলা ১১টায় উপস্থিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে গেলে শারদীয় দুর্গা উৎসবের কারণ দেখিয়ে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে গিয়ে দাবির পক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এবার আন্দোলনকারীরা আরও জোরালো কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বলছেন, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগের জাদুঘরের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এর আগের অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ থেকে আন্দোলনকারীরা যোগ দিয়েছেন। আর বাকিরা ২০ অক্টোবরের মধ্যে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

এদিকে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এসে আন্দোলনটির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন গোপালগঞ্জের শেখ রাজু আহমেদ (সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি, খুলনা পলিটেকনিক ইনিস্টিউট)। এরপর শারমিন সুলতানা সালমা, (সাবেক সহসভাপতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ) বর্তমানে ৬নং ওয়ার্ড মুগদা থানার সাধারণ সম্পাদক মহিলা আওয়ামী লীগ এই দাবির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, অনেকেই বলেন বর্তমানে দেশে সেশনজট নেই, কিন্তু পূর্ববর্তী সেশনজটের শিকার এই ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া সেই বছরগুলো ফেরত চান। আন্দোলনটি ২০১২ সাল থেকে চলছে। কিন্তু একাধিকবার বিভিন্ন মহল থেকে বয়স বাড়ার কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবতার মুখ দেখেনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর সুপারিশ করে। কিন্তু ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ কৌশলগতভাবেই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার বিষয়টিতে ইতিবাচক। কারণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, দেশের ২ কোটি ২৫ লাখ তরুণ ভোটারের কথা। আর এটি তরুণদের দীর্ঘদিনের দাবি। ফলে এ প্রস্তাব পাস করলে তরুণ ভোটাররা উদ্বুদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে বলে আশা ক্ষমতাসীন দলের। নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, নিবার্চনের আগেই এটি বাস্তবায়ন করা হলে ভোটে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ বয়স ৩০ বছর। আর অবসরের বয়স ৫৯ বছর। চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসা শিক্ষার্থীরা বলছেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছরই করতে হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, স্থায়ী কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে সুপারিশ করা হয়েছে অবশ্যই যৌক্তিক। আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবিষয় নীতিনির্ধারকরা ভালো বলতে পারবেন। চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবনা এখন কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয় কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আলোচনা হচ্ছে, প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি, খুব তাড়াতাড়ি হবে। খুব তাড়াতাড়িই জানতে পারবেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech