রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি আগামী সপ্তাহে

  

পিএনএস ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের সাথে বেশ কয়েকবার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হলেও মিয়ানমার একেক সময় একেক কথা বলে বেড়াচ্ছিল। অবশেষে ৩০ অক্টোবর ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদিন ১৫০ জন করে ১৫ দিনে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসন যখন যানবাহন নিয়ে ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান নেয় ঠিক তখনই শুরু হয় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিরোধী অপতৎপরতা। ফলে প্রশাসন বাধ্য হয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে।

শুক্রবার সকালে কুতুপালং ক্যাম্প ঘুরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, প্রত্যাবাসনের আওতাধীন তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। দায়িত্বশীল মাঝিদের মাধ্যমে এসব রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ফিরে যায় এ নিয়ে কথা হয়েছে। তবে কেউ কেউ ফিরে যেতে সম্মত হলেও অনেকেই এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের ৫ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরে যাবে না।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি আলী আহম্মদ জানান, রাখাইনে এখনো নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, ৬ বছর আগে লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে নিজ বাড়িভিঠা থেকে উচ্ছেদ করে সিটওয়ে আইডিপি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদেরকে এখনো নিজ বাড়িঘরে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। যেখানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ নেই। সেখানে রোহিঙ্গারা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাখাইনে ফিরবে না।

এ ব্যাপারে চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মন্নানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করা হলে তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের বাধারমুখে প্রত্যাবাসন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech