ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে অতিথি পাখি, ফাঁদ হাতে তৈরি শিকারীরা

  

পিএনএস ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে নিজেদের আহার যোগাতে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসা শুরু হয়েছে। এর সুযোগে শিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি।

এতে উপজেলার খাল বিলগুলোর সৌন্দর্য ও জীব-বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। শিকারীরা প্রতিদিন পাখি শিকার করে বিলাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও এর দেখ ভালের কেউ নেই। আর যারা পাখি শিকার করছে, তাদের অধিকাংশের আইনটি সম্পর্কে ধারণা নেই। এছাড়া এলাকার মানুষদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে না উঠার কারণেই শিকারীরা না জেনে শুনেই অবাধে পাখি শিকার করছে।

গত ১ সপ্তাহে খানসামা উপজেলার খালবিলগুলোয় যেমন কারেঙ্গাতলী, উদরা, আমলার দলা, আমলা, সিংগিমারির দলা, পাচপীর, দলবাড়ি ইত্যাদি ও এর পাশের গ্রামগুলো ঘুরে জানা যায়, বর্ষার শেষ ভাগে বিলে পানি কমতে শুরু করার কারণে ক্ষেতের জমি জেগে ওঠে। আর জমিতে অল্প পরিমাণে পানি থাকায় দু-একটি মাছও থাকে। আর এই মাছ খাওয়ার লোভে অতিথি ও দেশীয় প্রজাতির পাখিরা বিভিন্ন খাল বিলে ভিড় জমায়।

এই সুযোগেই কিছু লোভী শিকারীরা জাল, দানাদার বিষ সহ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে আসছে। তাছাড়াও বিলের এক শ্রেণির মৎস্যজীবিরা মাছের পাশাপাশি ভোর রাতে কারেন্ট জাল, উষ্ঠী বা বক ধরার ফাঁদ ব্যবহার করে নিশাচর অতিথি পাখি ও দেশীয় পাখি শিকার করছে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে খাল বিল এলাকায় স্থানীয় ভাবে গড়ে উঠা হাটে-বাজারে সূর্য ওঠার আগেই বিক্রয় করছে। এসব প্রতিটি পাখির জোড়া ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, উপজেলার খালবিলের সৌন্দর্যমন্ডিত অতিথি পাখি অবাধে শিকারের কারণে খালবিলের জীব বৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মূখীন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাখি শিকারীরা জানান, বিলে পানি কমার সাথে সাথে বিভিন্ন অতিথি পাখি শিকার করতে নেমে পড়ি। দিনে কম পাখি ধরা যায় কিন্তু রাতেই নিশাচর অতিথি পাখি ও দেশীয় নিশাচর পাখি বেশি ধরা পড়ে তা ভোরবেলায় বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি করে থাকি। এই পাখির মাংস’র স্বাদ পেতে অনেকেই মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাখি কেনা-বেচা করে থাকেন।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই শীত মৌসুমে চলনবিলগুলোতে পাখি শিকারীদের আনাগোনা দেখা যায়। এই বিষয়ে প্রশাসন সব সময়ই তৎপর রয়েছে। পাখি শিকারিদের ধরতে পারলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মৎস্য ভান্ডার খ্যাত বিভিন্ন খাল বিলে নিজেদের আহার যোগাতে এসে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে শিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে । এতে করে খালবিলের সৌন্দর্য ও জীব-বৈচিত্র্য হুমকির সম্মূখীন হচ্ছে।

শিকারীরা প্রতিদিন পাখি শিকার করে খাল বিলাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও এর দেখ ভালের কেউ নেই। আর যারা পাখি শিকার করছে, তাদের অধিকাংশের আইনটি সম্পর্কে ধারণা নেই। এছাড়া বিল পারের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে না উঠার কারণেই; শিকারীরা না জেনে শুনেই অবাধে পাখি শিকার করছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech