সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত আজ

  

পিএনএস ডেস্ক:একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার (১৪ জানুয়ারি) বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠকে তফসিল চূড়ান্ত করার পাশাপাশি তা ঘোষণাও হতে পারে।

এ ছাড়া সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া কিশোরগঞ্জ-১ আসনের তফসিল নির্ধারণও করা হতে পারে।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি কমিশনের ৪২তম সভা। এ সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল নির্ধারণ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের তফসিল নির্ধারণ, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের স্মারকলিপি বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তফসিল সোমবার (আজ) নির্ধারণ করার সম্ভাবনা নেই। তবে কয়টি ধাপে, কবে থেকে নির্বাচন আয়োজন করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ৩ জানুয়ারি শপথ নেন। এখন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুসারে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি চারটি, ঐক্যফ্রন্ট একটি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে দুটি আসন পাবে। তবে এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নজির নেই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পরই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৬টি আসন আর মহাজোটগতভাবে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে জাসদ দুটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, বিকল্পধারা দুটি এবং তরীকত ফেডারেশন একটিতে জিতেছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে জাসদের অনিবন্ধিত অংশের মইন উদ্দীন খান বাদলও একটি আসনে পেয়েছেন। এর বাইরে আওয়ামী লীগের মিত্র দল জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে একটি আসনে জিতেছে। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি ছয়টি এবং গণফোরাম দুটি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন তিনটি আসন।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুসারে এ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দলগুলোকে তাদের দল বা জোটভিত্তিক সংসদ সদস্যদের (এমপি) তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা যদি কোনো রাজনৈতিক দলে বা জোটে যোগ না দেন, তাহলে তারা নিজেরাই কোনো স্বতন্ত্র নামে নির্দলীয় জোট গঠন করতে পারবেন বলেও বিধানে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন গত ২ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করে। সে হিসাবে আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলগুলোর জন্য নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে জোট বা দলের সংসদ সদস্যদের তালিকা জমা দেওয়ার সময় রয়েছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech