সুন্দরবনের বাঘসহ হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য

  


পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৮তম সুন্দরবন দিবস। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস পালিত হয়ে আসছে। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় প্রথম এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর থেকে আমাদের দেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি।েএই সুন্দরবনে রয়েছে ৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ রয়েছে।

২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়।

বরাবরের মতো এবারেও সুন্দরবন দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি হয় খুলনায়। দিবসটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সুন্দরবনের বৃক্ষরাজি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করে এলেও দায়িত্বশীলদের টনক নড়ছে না। কার্যকর উদ্যোগ নেই। পরিবেশ অনুকূলে রাখতে এই সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম।

সুষ্ঠু পরিচালনার অভাবে সুন্দরবনের মূল্যবান জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে।এগুলো রক্ষায় পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।চোরা শিকারিরা রয়েল বেঙ্গল টাইগার হত্যা করে চামড়া পাচার করছে।হাতি হত্যা করে দাঁত পাচার করছে। একইভাবে অজগর ও গুঁইসাপের চামড়া ও বিষ পাচার অব্যাহত। আর হরিন শিকার করা হচ্ছে অবাধে।

চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম্যে সুন্দরবনের চিত্রা ও মায়া হরিন আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে। বাঘের সংখ্যাও কমে গেছে।অবাধে বনবৃক্ষ উজাড়ের ফলে শ্রীহীন হতে চলেছে প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোব খ্যাত সুন্দরবন। যে সুন্দরবন আমাদের দেয় মাছ, মধু, ফল, বৃক্ষ থেকে শুরু করে অনেক কিছু। বাঁচায় নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। আমাদের স্বার্থেই এ বনকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে বেসরকারি পর্যায়ে জার্মানির বাঘ বিশেষজ্ঞ হেন রিডসের করা প্রথম জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বলা হয়েছিল ৩৫০টি।১৯৮২ সালে ছিল ৪৫৩টি। আর ২০১৫ সালে সরকারের বন বিভাগের জরিপে ১০৬টি। ২০০৪ সালে ৪৪০টি। আর ২০১৭ সালের অক্টোবরে সুন্দরবনের যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় জানা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২১টি।

সারা বিশ্বে বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে বন উজাড়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, দ্রুত নগরায়ণ, জলাভূমি দখল, পরিবেশদূষণ, নির্বিচারে বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচারের ফলে প্রাণীর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। ১০০ বছরের ব্যবধানে দেশ থেকে তিন জাতের বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। মিটা পানির মাছসহ বিলুপ্তির পথে এক হাজার ১৭৩ জাতের প্রাণী।

আমাদের সুন্দরবনকে ঘিরে নানা ধরনের অপতৎপরতা চলছে। এর ধারাবাহিকতায় সেখানে ডুবছে তেলবাহী জাহাজ। যার ফলে সন্দরবনের অনেক জীবনবৈচিত্র্য ধ্বংস হয়। সুন্দরবনের কাছাকাছি কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এটাকেও সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে মনে করা হচ্ছে। আমাদের বহুরূপি উপকারির আধার এই সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রযোজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech