‘সমুদ্রের লবণাক্ত পানি সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছেছে’

  

পিএনএস ডেস্ক : গঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক নদীগুলোর উজানে ভারত বাঁধ নির্মাণ করায় বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ত পানি যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ ও মেঘনা নদীর ভৈরব পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক পানি বিশেষজ্ঞ ড. এস আই খান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মওলানা ভাসানী স্বপ্ন বাস্তবায়ন পরিষদ এ সভার আয়োজন করে। সংগঠনের আহ্বায়ক ও ভাসানীর নাতি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী মেরিন এতে সভাপতিত্ব করেন।

এস আই খান বলেন, গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ আন্তর্জাতিক নদীগুলোর বুকে ভারত বাঁধ নির্মাণ করায় বাংলাদেশ মরুকরণের মুখে পড়েছে। নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ ঠিক না থাকায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদীর ভেতর প্রবেশ করছে।

‘পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে এই পানি যমুনার সিরাজগঞ্জ ও মেঘনার ভৈরব পর্যন্ত চলে এসেছে। এ ছাড়া লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে চলে আসায় ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে’।

জাতিসংঘের সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক নদীর হিস্যা আন্তর্জাতিক আইনে হওয়ার কথা থাকলেও ভারত এমন আচরণ করছে, যেন এগুলো তাদের একক সম্পত্তি। ভারত উজানের পানি সরিয়ে নেওয়ায় পাতাল পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে।

‘শুষ্ক মৌসুমে বরেন্দ্র এলাকায় পানি উঠছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৮ ফুটের বেশি নিচে নামলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আর অল্পদিন আছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে এস আই খান সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি যেভাবে হয়েছে, সেভাবে আন্তর্জাতিক নদীর হিস্যা নিশ্চিত করুন। সেই সঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ তুলে দিতে দ্বিতীয় ফারাক্কা লং মার্চ আয়োজনের আহ্বান জানান এস আই খান।

সংগঠনের ছাত্রবিষয়ক আহ্বায়ক রুবাইয়াৎ মীর শহীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ভাসানীর একান্ত সচিব সৈয়দ ইরফানুল বারী, শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ অনেকে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন