বিদেশে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ন্যূনতম সহযোগিতা পাচ্ছেন না প্রবাসীরা

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সহায়তা করায় মরিশাস প্রবাসী মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে সম্মাননা সনদ দিয়েছে মরিশাসে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে হাইকমিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত রেজিনা আহমেদ সম্মাননা সনদ তুলে দেন হাফিজুর রহমানের হাতে।

রাষ্ট্র্রদূত বলেন, প্রবাসে সংগ্রামী জীবনের মধ্যেও হাফিজ তার পেশার বাইরে সামাজিক ও শ্রম কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন এবং প্রবাসীদের বিপদে-আপদে সহায়তা দিয়ে থাকেন। দুস্থ ও অসহায় শ্রমিকরা সমস্যায় পড়লে আন্তরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি। অসুস্থ-অসহায় প্রবাসীর খবর পেলে তিনি নিজেই এগিয়ে যান। বড় সমস্যা হলে হাইকমিশনকে জানান। এটা সবার জন্য দৃষ্টান্তমূলক।

মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, নিজের বিবেকের তাড়নায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানো চেষ্টা করি। এ জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাব, এ আশা কখনো করিনি। তবে এমন সম্মানে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। মানিকগঞ্জের সন্তান মোহাম্মদ হাফিজ প্রায় ১৩ বছর মরিশাসে আছেন। বর্তমানে তিনি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত বছর মোহাম্মদ হাফিজের উদ্যোগ বিশ্বের ১৪টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইয়ং স্টার প্রবাসী কল্যাণসংঘ। অনলাইনভিত্তিক সংগঠনটির উদ্যোগে অসুস্থ প্রবাসীর চিকিৎসা সহায়তা, মরদেহ দেশে প্রেরণ, নতুন প্রবাসীদের ভাষা শেখার সহযোগিতাসহ নানা ধরনের সেবামূলক কাজ চলছে। মা

বিদেশের মাটিতে মানিকগঞ্জের সন্তান মোহাম্মদ হাফিজের মানবদরদি কর্মকাণ্ড অনুকরণীয় বৈকি। তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অন্য প্রবাসীরা যদি বিদেশে গিয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে প্রবাসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না আমরাদের সন্তানরা। আর তাদের জন্য দুঃচিন্তার কারণ হবে না দেশ থাকা স্বজনদের জন্য।

আদতে বাংলাদেশ মিশন বিভিন্ন দেশে আছে বটে। তারা আছেন সরকারের মন্ত্রী-এমপি-সচিব এবং তাদের শ্যালিকা-শালা-সম্বন্ধীদের নিয়ে ব্যস্ত। তারা এদের ফটোকল নিয়ে পড়ে থাকেন। উল্লিখিতদের স্ত্রী-সন্তানদের খেদমতে তারা সদা মশগুল। এর সিকি ভাগও যদি তারা বিদেশে থাকা বাংলাদেশীদের কল্যাণে ব্যয় করতেন, তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য তা সোনা সোহাগায় পরিণত হতো।

কিন্তু না, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন সেটা নামকাওয়াস্তেও করছেন না। রুটিন ওয়ার্কের বাইরে তারা একচুলও নড়ছেন না। আর সেটা যা করছেন, সেটার পুরোটাই ফাইল ওয়ার্ক। তারা নিজেদের আরাম-আয়েশ আর লাভজনক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আর ব্যস্ত ফরমায়েশ খাটতে। মূল কাজ প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশে দাঁড়ানো থেকে যোজন যোজন দূরে বাস্তব অবস্থান তাদের সব সময়।

ভালো লাগছে এটা ভেবে যে, মরিশাসে বাংলাদেশ হাইকমিশন সেখানে নিয়োজিত এবং বাংলাদেশীদের জন্য নিবেদিত একজন মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের কাজের মূল্যায়ন করেছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ। মোহাম্মদ হাফিজ মিশনকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে প্রবাসীদের জন্য কাজ করতে হয়। জনাব হাফিজের এ সফলতা, বা্ংলাদেশ মিশনগুলোর জন্য একটা সবক বৈকি।

কত কষ্ট করে প্রায় সব সম্পদ বেচা-বিক্রি করে আপনজনদের ছেড়ে মানুষ প্রবাসে যায় একটু আর্থিকভাবে সক্ষমতার আশায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। তখন তারা বাংলাদেশ মিশনের দ্বারস্থ হয়ে খুব একটা ফল পান না। অবজ্ঞাই যেন তাদের কপালের লিখন। অথচ তাদের পাশে দাঁড়ানোই বাংলাদেশ মিশনগুলোর অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। সে দায়িত্ব পালনে হাইকমিশনগুলোয় কর্মরতদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও কঠোর নির্দেশনা সময়ের দাবি।
মানিতগঞ্জেরমা

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech