দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে রেলওয়ের আগাম টিকেট বিক্রি

  

পিএনএস ডেস্ক : ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন গন্তব্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রেলওয়ের আগাম টিকেট বিক্রি চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল ৯টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের নির্ধারিত ৯টি কাউন্টারে একসঙ্গে টিকিট বিক্রি শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার দেওয়া হচ্ছে ১ জুনের টিকেট। আগামীকাল অর্থাৎ ২৪ মে দেওয়া হবে ২ জুন, ২৫ মে দেওয়া হবে ৩ জুন ও ২৬ মে দেওয়া হবে ৪ জুনের টিকেট।

অন্যদিকে রেলের ফিরতি টিকেট বিক্রি আগামী ২৯ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ২ জুন পর্যন্ত। ২৯ মে দেওয়া হবে ৭ জুনের, ৩০ মে দেওয়া হবে ৮ জুনের, ৩১ মে দেওয়া হবে ৯ জুনের, ১ জুন দেওয়া হবে ১০ জুনের ও ২ জুন দেওয়া হবে ১১ জুনের ফিরতি টিকেট।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্রিম এ টিকেট বিক্রি ২২ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৬ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকেট বিক্রি করা হবে।

এবারই প্রথম ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর, বনানী, তেজগাঁও স্টেশন এবং ফুলবাড়িয়া থেকে রেলের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এবারে মোট ৭০ হাজার রেলের টিকেট বিক্রি হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর অর্ধেক বিক্রি হবে অনলাইন ও অ্যাপে। তবে স্পেশাল ট্রেনের কোনো সিট মোবাইল অ্যাপে পাওয়া যাবে না। বাকি অর্ধেক টিকেট উপরোল্লিখিত রাজধানীর পাঁচটি জায়গা থেকে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে ভিআইপি কোটা ৫ শতাংশ ও রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ৫ শতাংশ টিকেট। সব মিলিয়ে মোট ২৮ হাজার স্টেশন থেকে সরাসরি টিকেট বিক্রি করা হবে। যদিও এখন পর্যন্ত অনলাইনে বা অ্যাপে রেলের টিকেট মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস, চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী পদ্মা এক্সপ্রেস, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস, নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ও সিরাজগঞ্জ সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকিট দেওয়া হচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের অগ্রিম টিকেট বিক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় টিকেট বিক্রয়ের রুটগুলো হচ্ছে : ঢাকা (কমলাপুর)-সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেন ভায়া যমুনা সেতু, বিমানবন্দর স্টেশন-চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তনগর ট্রেন, তেজগাঁও স্টেশন-ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সব আন্তনগর ট্রেন, বনানী স্টেশন-নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেন, ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন)-সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তনগর ট্রেন।

কমলাপুরে সুশৃঙ্খলভাবেই টিকিট বিক্রি চলছে। লোকজন নির্ধারিত লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ ইতোমধ্যে টিকিট পেয়েছেন, আবার কেউ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে টিকিট কেনার পদ্ধতি চালু করায় এবার কালোবাজারিদের উৎপাত নেই। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে টিকিট কিনতে পারছেন। একজন জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারছেন।

এদিকে, কমলাপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও কালোবাজারি রোধ করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আর্মড পুলিশ ও র‌্যাব সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে টিকিট বিক্রি চলছে। এটা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

কর্তৃপক্ষ জনিয়েছে, ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে অর্থাৎ ৩১ মে থেকে রেলওয়েতে ট্রেনের কোনো ডে-অফ থাকবে না। ফলে ৪৮টি বিশেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে।

ঈদকে কেন্দ্র করে টিকেট নিয়ে যেকোনো রকম কালোবাজারি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সব বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ ও র‍্যাবের সহযোগিতায় টিকেটের কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেখিয়ে একজন সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কিনতে পারবেন। এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে মালবাহী ট্রেন বন্ধ থাকবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech