ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনা চরমে, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ শুরু হয়েছে। আর মাত্র একদিন পর আমাদের দেশে ঈদ-উল আযহা। অনেকে এ ঈদকে কোরবানীর ঈদ বলে থাকেন। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ শহর-বন্দর-নগর থেকে নাড়ির টানে মানুষ ছুটছে গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাওয়া ঘরমুখো মানুষ পথে পথে যারপরনাই বিড়ম্ভনায় পড়ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ট্রেনই ছেড়ে যাচ্ছে না। শিডিউল বিপর্যয় কত প্রকার ও কী কী- তার সবই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ট্রেনে ঘরমুখী যাত্রীরা। একেকটি ট্রেন ১০ ঘন্টা পর্যন্ত দেরিতে ছাড়ছে। কমলাপুর রেল স্টেশনে না গেলে যাত্রীদের কষ্ট সহজে বোঝা যাবে না।

একেকটি ট্রেন যখন আসে, যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ভেতরে কোথাও সামান্য ফাঁকা নেই। দাঁড়িয়েই দীর্ঘ গন্তব্যে যাচ্ছে মানুষ! এমনকি ছাদেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মানুষগুলো ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে করে যাচ্ছে! এক্ষেত্রে মহিলারাও পিছিয়ে নেই। শিশুদেরও ছাদের উপর বসতে দেখা গেছে। বাদ যায়নি দুধের শিশুরাও! এভাবে যাতায়াতে যে ঝুঁকি থেকে যায়।

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিআরটিসি বাসও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিটি বাসই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। আগে থেকে টিকিট কাটা দূরপাল্লার বাসগুলো সময়মতো না আসায় যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ফেরিঘাটে দীর্ঘ লাইন থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ফেরিঘাটের দুই পারে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ফলে যানজটে আটকেপড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের অবস্থা খুই খারাপ। এ ছাড়া প্রাকৃতিক ডাকে ছাড়া দেওয়ার স্থানের অভাবে তারা পার্শ্ববর্তী বাড়ি-ঘরে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ফেরিঘাটের দুপাড়ে বেশি করে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা। আপাতত ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ঈদকে সামনে রেখে লক্করঝক্কর মার্কা কিছু বাস ও লঞ্চ মেরামত করতে দেখা গেছে। এসব যান দুর্ঘটনার কারণ বৈকি। এবার যেন এসব বাস সড়কে এবং লঞ্চ নৌপথে যাত্রী পরিবহন করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। আশার কথা, এবারের ঈদে এখনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

একেকটি দুর্ঘটনা মানে সংশ্লিষ্ট পরিবারের ঈদ আনন্দ মাটি হওয়া। তাই লক্করঝক্কর মার্কা যানবাহন যেন সড়ক ও নৌপথে চলতে না পারে এবং দুর্ঘটনার কারণে পরিণত হতে না পারে- সে জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সব পক্ষের সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। বেশি জরুরি, প্রতিযোগিতা ও ওভারটেক না করে ঠাণ্ডা মাথায় চালকদের গাড়ি চালানো।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনা যন্ত্রণার কারণে পরিণত। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় এ বিড়ম্বনার অন্যতম কারণ। আগে সিডিউল বিপর্যয় দু-চার ঘণ্টা হতো। এবার সেটা ১০ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকেছে। যদিও রেলমন্ত্রীর নিজ এলাকার ট্রেন ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে, নির্ঝঞ্ঝাটে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে, সে ব্যবস্থাটা নিশ্চিতে চালকদের ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চালানো জরুরি। আরো বেশি জরুরি সময়মতো ট্রেনগুলো ছাড়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ফেরির উভয় পারে যানজটে নিরসনে অধিক গুরুত্ব দেওয়া।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech